কোঁকড়া চুলের সমস্যার একমাত্র সমাধান সঠিক যত্ন। রুক্ষ বা শুষ্ক কোঁকড়া চুলের প্রাণ ফেরাতে পারে ঘরোয়া পরিচর্যা। সঠিক হেয়ার কেয়ারের বিকল্প কিছুই নেই। কীভাবে যত্ন নেবেন এই কোঁকড়া চুলের? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
যেকোনো চুলের ক্ষেত্রেই শ্যাম্পুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চুল পরিষ্কার করাই যে শ্যাম্পুর কাজ নয়। শ্যাম্পু চুলের ন্যাচারাল টেক্সচার ধরে রাখে। তাই সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার জরুরি। কোঁকড়া চুলের জন্য এমন শ্যাম্পু বাছতে হবে, যাতে সালফেট, অ্যালকোহল, প্যারাবেন জাতীয় কেমিক্যালস না থাকে। এ ধরনের চুলের কোমলতা বেশি হয়। তাই ব্যবহার করুন মাইল্ড শ্যাম্পু। আর শ্যাম্পু সুগন্ধি না হলেই ভালো।
কোঁকড়া চুল ঠিক রাখতে বেশি আর্দ্রতা ও তৈলাক্ততা প্রয়োজন। তবে খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে দুবার শ্যাম্পু করতে পারেন। বেশি শ্যাম্পু করলে, চুল রুক্ষ হয়ে যাবে। শ্যাম্পুর সঙ্গে ময়শ্চারাইজিং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তাহলে চুল থাকবে নরম।
এ ধরনের চুলের শ্যাম্পু করার আগে কিছু কন্ডিশনিং অয়েল বা নারিশিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এমন মাস্ক ব্যবহার করুন, যা চুলে উজ্জ্বলতা আনবে। সেই সঙ্গে চুলকে করবে নরম ও মসৃণ।
চুল ধোওয়ার জন্য সবসময় ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। গরম পানি তো নয়ই, এমনকি হালকা গরমও নয়। গরম পানি আপনার কোঁকড়া চুলের জন্য ভালো নয়। এতে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। বেড়ে যাবে চুল পড়া।
চুল ধোওয়ার পর সুতির নরম তোয়ালে বা কটন কাপড়ে চুল জড়িয়ে নিন। পানি কখনও মোছার চেষ্টা করবেন না। এতে চুলে ঘষা লেগে তা রুক্ষ হয়ে যায়।
কোঁকড়া চুল ম্যানেজ করার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ চুল আঁচড়ানো। যতই সাবধান হন, চুল পড়া অবধারিত। বিশেষত ভেজা চুলে। এই কারণে কোঁকড়া চুল খুব ঘন ঘন ব্রাশ করবেন না। দিনে একবার আঁচড়ালেই যথেষ্ট। গোসলের আগে বড় দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে একবার পুরো চুল আঁচড়ে নিতে পারেন।
দুই বা তিন মাস অন্তর একবার চুলের ডগা ট্রিম করান। এতে চুল ভালো থাকবে, কার্লসও বাউন্সি থাকবে।
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটু ঢিলা করে পনিটেল, বিনুনি বা টপ বান বেঁধে যান। বালিশের সঙ্গে যত কম ঘষা লাগে, ততই ভালো। এতে চুলও মসৃণ থাকবে। আর আপনার চুলের কোঁকড়াভাবও বজায় থাকবে।