চুল পড়া রোধ কীভাবে করবেন

চুল পড়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। বংশগতি, শারীরিক সমস্যা, স্ট্রেস, খুশকি, অপুষ্টি বা অযত্ন। এ ছাড়াও নানাবিধ কারণে পড়ে যেতে পারে আপনার সাধের চুল। কিছু সমস্যার সমাধান কারও হাতে থাকে না। অপুষ্টি আর অযত্নের ক্রেডিট তো সম্পূর্ণই আপনার। তাই চুলের এই চিরন্তন সমস্যাকে গোঁড়া থেকে মিটিয়ে ফেলতে পারেন আপনি। তার জন্য রইলো ঘরোয়া সমাধান। সমাধানের আগে সমস্যা অবশ্যই ঠিক করে নিতে হবে।

চুল পড়ার সমস্যা স্বাভাবিক। কম হোক বা বেশি হোক, চুল পড়বেই। তবে পরিমাণটা গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় গুনে গুনে চারটি চুল পড়ে আছে। আর এতেই হুলুস্থল কান্ড বাধিয়ে দিলেন। কিন্তু এটা একেবারেই সাধারণ বিষয়। এটা সবারই নিয়মিত হয়। দিনে ৫০ থেকে ১০০টা চুল পড়া স্বাভাবিক। কারণ প্রতিদিন চুল যেমন পড়ে, তেমনই নতুন গজায়। এটা আসলে চুলের জন্য স্বাভাবিক লাইফ সাইকেল। যদি আপনার এর থেকে বেশি চুল পড়ে বা চিরুনি মাথাল দিলেই চুল পড়তে থাকে, তবে এটা সমস্যা। খেয়াল রাখতে হবে মাথার কোনো নির্দিষ্ট অংশ থেকে চুল পড়ছে কিনা। তাহলে সেখানকার ঘনত্ব ক্রমশ কমতে থাকবে। এটি হলে অবশ্যই আপনার চুল পড়া সমস্যা রয়েছে। চুলের ডগা পাতলা হয়ে যাওয়াও চুল পড়ার লক্ষণ। 

চুলের যত্নে নিয়মিত তেল দিতে হবে। ছবি: ফ্রিপিক

খুশকির সমস্যায়: এ ধরনের সমস্যায় সহজ ঘরোয়া সমাধান রয়েছে। লেবু বা টি-ট্রি অয়েলের সাহায্য নিতে পারেন। তবে এর কোনোটি সরাসরি চুলে লাগানো যাবে না। পানিতে পাতলা করে বা অন্য কোনো প্যাকে মিশিয়ে চুলে লাগাতে হবে। সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত চালিয়ে যান। মেথি, ভিনিগার, হেনা ও টকদই খুশকির প্রতিকারে খুব ভাল কাজ করে।

অপুষ্টি জনিত সমস্যায়: চুল পুষ্টি না পেলে পড়তে থাকে। পুষ্টি ছাড়া যেকোনো কিছুই দুর্বল হয়ে পড়বে। এটাই স্বাভাবিক। সেদিক থেকে কাজে দেবে নারকেলের দুধ, আমলকি, জবাফুল, কারিপাতা এবং পেঁয়াজ। আরো অনেক উপাদান রয়েছে, চুল সমস্যা সমাধানে। আগে এগুলো ট্রাই করে দেখুন। হেয়ার ব্রাশের সাহায্যে নারকেলের দুধ স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। চুলের গোড়াতেও সরাসরি আমলকির ব্যবহার করলে চটজলদি চুল পড়া কমে যাবে। চুল মজবুত করতে প্রাচীনকাল থেকেই জবাফুল ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্নায় অনেকে ফোড়ন হিসেবে কারিপাতা ব্যবহার করেন। তবে চুল পড়া রোধও এর ভূমিকা অনেক। আর নতুন চুল গজাতে যে পেঁয়াজ অব্যর্থ, তা অনেকের জানা। প্যাক বানিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করুন। অবশ্যই ফল পাবেন।