সোজা, মসৃণ আর সুন্দর চুল পেতে আজকাল অনেকেই চুল রিবন্ডিং করছেন। নিজেদেরকে একটু গুছিয়ে উপস্থাপন করতে তরুণীদের মাঝে আজকাল রিবন্ডিং করা চুলের কদর অনেক বেশি।
রিবন্ডিং প্রক্রিয়ায় আমাদের চুলের প্রাকৃতিক বন্ধন রাসায়নিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়। এই রাসায়নিক বন্ধনগুলোই চুলকে মসৃণ এবং স্ট্রেইট লুক দেয়। যাদের চুল কোঁকড়ানো এবং রুক্ষ হয়ে থাকে, কিংবা জট হয়, আগা ফেটে যায়, তাদেরকে হেয়ার স্টাইলিস্টরা প্রায়ই রিবন্ডিংয়ের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তবে শুধু রিবন্ডিং করলেই কাজ হয় না। কারণ রিবন্ডিং আসলে চুলকে ভঙ্গুর আর দুর্বল করে তোলে। রিবন্ডিং করার পর চুলের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। নইলে অল্পদিনেই চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুল নিষ্প্রাণ ও রুক্ষ হয়ে যায়।
জেনে নিন রিবন্ডিংয়ের পর চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখতে করণীয় সম্পর্কে-
তাৎক্ষণিকভাবে ধোয়া নয়
রিবন্ডিং করানোর পরপরই চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্তত দুই থেকে তিনদিন অপেক্ষার পর চুল পানি দিয়ে ধুতে পারবেন। এতে চুলের গোড়ায় রিবন্ডিং ক্রিম গভীরভাবে প্রবেশ করতে পারে এবং রিবন্ডিংয়ের পুরো উপকার পাওয়া যায়।
গরম পানি এড়ানো
উষ্ণ বা গরম পানি চুলের আর্দ্রতা শুষে নেয়। শুষ্ক চুলে স্প্লিট এন্ডস বা ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা অনেক বেশি থাকে। রিবন্ডিং করা চুল তাই কখনোই গরম পানি দিয়ে ধোবেন না। শ্যাম্পু করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন।
চুলকে কন্ডিশন করা
রিবন্ডিং করা চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করা আবশ্যক। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর পর্যাপ্ত পরিমাণে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুল রিবন্ড করার সময় প্রচুর তাপ প্রয়োগ করা হয়, ফলে চুলের গোড়া আলগা হয়ে চুল পড়ে যেতে থাকে। এসময় তাই চুল পড়া কমাতে সক্ষম (অ্যান্টি হেয়ার লস) এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারও এড়িয়ে চলুন; প্রাকৃতিকভাবে চুল শুকাতে দিন।
হেয়ার মাস্ক ব্যবহার
রিবন্ডিং করা চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চুলের আর্দ্রতা ফেরানোর আরেকটি কার্যকর উপায় হেয়ার মাস্কের ব্যবহার। চুলের জন্য পুষ্টিকর বিভিন্ন উপাদান যেমন কেরাটিন, এসেনশিয়াল অয়েলস, অ্যালোভেরা এবং শিয়া বাটার ইত্যাদি হেয়ার মাস্কে রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
নতুন ট্রিটমেন্ট নয়
রিবন্ডিং করার সময় ফর্মালডিহাইড, অ্যালডিহাইড এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। পরবর্তী অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত বজায় থাকে এর প্রভাব। এ সময় চুলে নতুন কোনো কেমিকেল ট্রিটমেন্ট না করানোই ভালো। নইলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: টু হার্বস