চুল ভালো রাখতে যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও জরুরি। তাই তো চুলের হাল ফেরাতে রূপবিশেষজ্ঞরা সর্বপ্রথম নজর দিতে বলেন ডায়েটে। এক্ষেত্রে তাঁরা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে জোর দেন। কারণ এসব উপাদান চুলের টেক্সচার উন্নত করতেও সাহায্য করে।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ট্রিকোলজিতে ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, চুলের গঠনে কেরাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিনের মুখ্য ভূমিকা থাকে। প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে ডায়েটে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতেই হবে। এছাড়া প্রোটিন হেয়ার ফলিকলে পর্যাপ্ত পুষ্টির ঘাটতি মেটায়। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং হেয়ার ফল কমায়।
শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে ওষুধ বা অপ্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট না গ্রহণ করাই ভালো। এক্ষেত্রে কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলে মিলবে উপকার। দেখে নিন খাবারের তালিকায় কী রাখবেন।
ডিম: সকালের নাশতায় ডিম খেতে পারেন আপনি। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন মেলে। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়াও বায়োটিন, ভিটামিন এ এবং ডি রয়েছে ডিমে। জিংক এবং সেলেনিয়ামও পাওয়া যায় এই খাবারটিতে। আর প্রতিটি উপাদানই স্ক্যাল্পের সুস্বাস্থ্য অটুট রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইয়োগার্ট: ক্রিমি এবং সুস্বাদু গ্রিক ইয়োগার্টে অন্তত ১০ গ্রাম প্রোটিন মেলে। সেই সঙ্গে ক্যালশিয়াম এবং প্রোবায়োটিক্সও মজুত থাকে। দইয়ের প্রোটিন চুলের গঠন এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিক ইয়োগার্টের উপস্থিত ভিটামিন বি৫ স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
ডাল: এই খাবারটি প্রোটিনে ভরপুর। ১ কাপ ডালে অন্তত ১৮ গ্রাম প্রোটিন থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন এবং ফোলেটেরও সম্ভার ডাল। এই ডাল খেলেই মিটবে আপনার প্রোটিনের ঘাটতি। এটি কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। পাশাপাশি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের সুস্বাস্থ্য অটুট রাখে।
আমন্ড: কয়েকটি আমন্ড শরীরে অন্তত ৬ গ্রাম প্রোটিনের ঘাটতি মেটে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া আমন্ডে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেশিয়াম। আমন্ডে উপস্থিত প্রোটিন এবং ম্যাগনেশিয়াম চুল মজবুত করে। চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এছাড়া আমন্ডের ভিটামিন ই একটি কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যেটি চুলকে ফ্রিব়্যাডিকালসের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।



