মেকআপে প্রাইমার ব্যবহার কেন জরুরি?  

সাজগোজ করতে ভালোবাসেন, অথচ প্রাইমার ব্যবহার করেন না; এমন হলে কিন্তু আপনার সাজে বড়সড় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে! কারণ, মেকআপ শুরুর প্রথম ধাপই হলো প্রাইমার।

অন্যান্য মেকআপ সামগ্রীর মতো প্রাইমারও একটি প্রসাধনী। ক্রিম বা জেল ভিত্তিক এই পণ্যটি মেকআপের শুরুতেই ব্যবহার করতে হয়। মুখের ত্বক আর মেকআপের মধ্যে অতিরিক্ত একটি স্তর তৈরি করে এই প্রাইমার।

বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের প্রাইমার পাওয়া যায়। এসব প্রাইমারের কাজও ভিন্ন। কোনোটি মুখের পোরস বা লোমকূপ সঙ্কুচিত করে, কোনোটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, আবার কোনো প্রাইমার তৈলাক্ত ত্বকে ঝরঝরে লুক এনে দেয়।

ত্বকে প্রাইমারের রয়েছে নানাবিধ ভূমিকা-  

আর্দ্রতা বজায় রাখা 

ময়েশ্চারাইজার তো ব্যবহার করা হচ্ছেই, তাহলে আর্দ্রতার প্রশ্নে প্রাইমারের নাম কেন আসবে! আসলে আমরা যখন মেকআপ করি, তখন ত্বকের জন্য শুধু ময়েশ্চারাইজার যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যাদের ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক আর নির্জীব, তারা মেকআপ করলে ত্বক আরও রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়। মেকআপ দেখতে তখন একদম কেকি লাগে। অন্যদিকে প্রাইমার ত্বককে পুরোপুরিভাবে হাইড্রেটেড করে, তাই ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করার আগে প্রাইমার ব্যবহার করতে হয়।

তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণ

প্রাইমারের মধ্যে ত্বকের তেলতেল ভাব নিয়ন্ত্রণ করার একটি ক্ষমতা রয়েছে। সামান্য একটু প্রাইমার নিলেই মুখের ত্বকের সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মুখে একটা ম্যাট ফিনিশিং দিবে।

ত্বকের খুঁত ঢাকা

ত্বকে ভাঁজ পড়া থেকে শুরু করে চোখের নিচের কালো দাগ, ব্রণের দাগ, ওপেন পোরস ইত্যাদিকে হালকা করে দেয় প্রাইমার। প্রাইমারের ব্যবহারে স্কিন টোনও ইভেন হয়ে ওঠে, ফলে মেকআপ বসাতে সুবিধা হয়।

এক কথায়, মেকআপের সময় ফাউন্ডেশন যাতে ঠিকমতো ত্বকের উপর বসে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় সে কারণে প্রাইমার ব্যবহার ভীষণ জরুরি। প্রাইমার ব্যবহারের পর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ত্বকের খুঁতগুলোও সহজেই ঢাকা পড়ে। এজন্যই মেকআপ করার ক্ষেত্রে প্রাইমার বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমেই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে একটি টোনার ব্যবহার করে নিন। তারপর পর্যাপ্ত পরিমাণ ময়েশ্চারাইজার নিয়ে সারা মুখে ভালোভাবে লাগান। অন্তত এক মিনিট সময় দিন যেন ময়েশ্চারাইজার ভালোভাবে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে। এরপর একদম সামান্য পরিমাণ প্রাইমার নিন এবং ভালো করে ত্বকের সঙ্গে ব্লেন্ড করুন।  

মনে রাখবেন, প্রাইমার লাগানোর সময় খুব অল্প পরিমাণে নিয়ে শুরু করবেন এবং সারা মুখে সমানভাবে ব্যবহার করবেন। বেশি ব্যবহার করলে পরে মেকআপ ভালোমতো মুখে বসবে না। শেষে কনসিলার ও ফাউন্ডেশন লাগান এবং ফেস পাউডার দিয়ে সেট করে নিন।