চুলের যত্নে যে কাজগুলো না করলেও চলবে

স্কিনকেয়ারে একসময় ১০ ধাপের রুটিন ছিল নিয়মের মতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়া বদলে গেছে, এখন জনপ্রিয় সহজ ও কম ধাপের স্কিনকেয়ার। এবার সেই ধারা এসে পড়েছে চুলের যত্নে। নতুন এই ট্রেন্ডের নাম, হেয়ার মিনিমালিজম। এর মূল ভাবনা, যত্নে রাখুন কেবল প্রয়োজনীয় ধাপ, বাদ দিন বাড়তি ঝামেলা। এতে চুল সুস্থ থাকবে, খরচ কমবে, আর সময়ও বাঁচবে।

জরুরি যে ধাপ বাদ দেওয়া যাবে না

নিউ ইয়র্কের দ্য সেকেন্ড ফ্লোর সেলনের স্টাইলিস্ট রজেরিও কেভালকান্তে বলেন, ‘চুল পরিষ্কারের জন্য শ্যাম্পু অপরিহার্য। এরপর কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’

এই দুই ধাপ বাদ দিলে চুলের ক্ষতি নিশ্চিত। আপনি আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী স্টাইলিং রুটিন কাস্টমাইজ করতে পারেন। কারো জন্য তা হতে পারে হিট প্রোটেকটেন্ট ও ব্লো-আউট। আবার কারো জন্য কার্ল ডিফাইনিং ক্রিম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার দিয়ে সুন্দর এয়ার-ড্রাই।

যে ধাপগুলো বাদ দেওয়া যায়

প্রি-শ্যাম্পু ট্রিটমেন্ট: শ্যাম্পুর আগে দেওয়া তেল বা কন্ডিশনিং মাস্ক শুকনো বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলে উপকারী হলেও সবার জন্য জরুরি নয়। যদি আপনার চুল ও স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে, তবে এই ধাপ বাদ দিতে পারেন।

মাল্টি-স্টেপ কন্ডিশনিং: একদিনে একাধিক কন্ডিশনার লাগানোর দরকার নেই। সাধারণত শ্যাম্পুর পর একটি ভালো কন্ডিশনারই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে দুই সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করলেই হবে।

ডিট্যাঙ্গলিং স্প্রে: এটি মূলত ফাইন, লম্বা বা কার্লি চুল কিংবা খুব সংবেদনশীল স্ক্যাল্পের জন্য। যদি ধোয়ার পর সহজেই চুল আঁচড়াতে পারেন, তাহলে এটি এড়িয়ে যেতে পারেন।

হেয়ার অয়েলিং: আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির তেল দেওয়া দীর্ঘ ও ঘন চুলের জন্য দারুণ হলেও সবার জন্য নয়। তেলতেলে স্ক্যাল্প থাকলে এই ধাপ বাদ দেওয়া ভালো।

স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েশন: শুকনো ও টানটান স্ক্যাল্পে এক্সফোলিয়েশন ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

হট অয়েল ট্রিটমেন্ট: বারবার তেল গরম করে লাগানো চুল ভারী, নিস্তেজ করে দিতে পারে, বিশেষ করে হিট টুল ব্যবহার করলে। মাঝে মাঝে করলেই যথেষ্ট।

ড্রাই শ্যাম্পু: যারা কয়েকদিন শ্যাম্পু ছাড়া থাকতে পারেন, তাদের জন্য ড্রাই শ্যাম্পুর প্রয়োজন নেই। বরং প্রয়োজনমতো সরাসরি শ্যাম্পু করাই ভালো।