গ্রীষ্ম মানেই বাজারে রসালো, মিষ্টি আমের ভিড়। শুধু খেতেই নয়, এই আম ত্বকের যত্নেও দারুণ কাজে লাগে। ফলের এই মৌসুমি এখন রূপচর্চার নতুন উপাদান হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রোদে পোড়া ভাব বা গরমে অতিরিক্ত ঘামজনিত সমস্যায়।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমে থাকা ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। এতে ত্বক থাকে টানটান ও সতেজ, কমে আসে অকাল বলিরেখার ঝুঁকি। পাশাপাশি ভিটামিন এ এবং বিটা-ক্যারোটিন ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। সেই সাথে ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আনে। তাই শুধু খাবার টেবিলেই নয়, ত্বকের যত্নেও আম এখন অন্যতম উপাদান।
এই মাস্ক তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণ লাগে না। ঘরেই সহজে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি উপাদানই যথেষ্ট। প্রথমেই লাগবে মেল্টেড শিয়া বাটার দেড় টেবিল চামচ, ম্যাঙ্গো সিড বাটার ১ টেবিল চামচ (পাকা আমের বীজের ভেতরের নরম অংশ থেকে তৈরি), মধু ১ টেবিল চামচ, নারকেল তেল ১ চা-চামচ এবং চন্দন গুঁড়ো ১/২ চা-চামচ। এই সব উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় একটি প্রাকৃতিক স্কিন কেয়ার মাস্ক। যা ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে।
প্রথমে শিয়া বাটার ও ম্যাঙ্গো সিড বাটার একসঙ্গে নিয়ে হালকা আঁচে গলিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, মিশ্রণটি যেন বেশি গরম না হয়ে যায়। বেশি তাপে উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। এরপর এতে মধু যোগ করে ভালোভাবে নাড়তে হবে। ধীরে ধীরে মিশ্রণটি ঘন ও ক্রিমের মতো হয়ে আসবে। এই ধাপেই ধৈর্য ধরে মেশানো জরুরি। যাতে মসৃণ টেক্সচার পাওয়া যায়।
এরপর নারকেল তেল যোগ করতে হবে। এটি ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা যোগ করে এবং শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে। সবশেষে চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে হবে। চন্দন শুধু ত্বককে ঠান্ডা রাখে না, বরং লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়াও কমাতে সাহায্য করে। সব উপাদান যেন ভালোভাবে মিশে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মাস্ক ব্যবহার করার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। কোনো ময়লা বা তেল যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এরপর শুকনো মুখে চোখের চারপাশ এড়িয়ে পাতলা একটি স্তর হিসেবে মাস্কটি লাগাতে হবে। চোখের খুব কাছে না যাওয়াই ভালো, কারণ এটি সংবেদনশীল অংশ।
মাস্কটি মুখে লাগিয়ে প্রায় ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এই সময় উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে কাজ করে। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। চাইলে ধোয়ার আগে হালকা বরফ ঘষে নিলে ত্বকে আরও সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়। মুখ ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুছে নিয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই মাস্কে কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক নেই। তাই ত্বকে জ্বালাপোড়া বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও কম। আমের বীজ থেকে তৈরি বাটার এবং শিয়া বাটার ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। ফলে ত্বক থাকে নরম ও মসৃণ। অন্যদিকে মধু ও চন্দন ত্বকের সংবেদনশীলতা কমিয়ে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়।
বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক বা সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়। তাদের জন্য এই মাস্ক উপকারী হতে পারে। গরমের দিনে রোদে পোড়া ত্বককে স্বস্তি দিতেও এটি সহায়ক।
ত্বকের যত্ন নিতে সব সময় দামি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় ঘরেই থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই পাওয়া যায় ভালো ফল। আম-চন্দনের এই ফেস মাস্ক তেমনই একটি সহজ ও কার্যকর রূপচর্চা পদ্ধতি। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক শুধু সুন্দরই নয়, হবে ভেতর থকে সতেজ ও উজ্জ্বল।