অ্যালোভেরা আপনার ত্বকের জন্য ভালো নাকি খারাপ, জানেন?

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বহু বছর ধরেই বেশ জনপ্রিয়। পোড়া দাগ দূর করা, ব্রণ কমানো বা ত্বকের লালচেভাব কমাতে পারে অ্যালোভেরা। তাই তো প্রাকৃতিক এই জেলকে অনেকেই সব সমস্যার সমাধান মনে করেন। তবে রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

ঢাকার এক বেসরকারি হসপিটালের স্কিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আব্দুল্লাহ প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘অ্যালোভেরা সবার ত্বকে একভাবে কাজ করে না। অনেকের ক্ষেত্রে এটি ভালো ফল দিলেও কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি বা হালকা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।’

অ্যালোভেরা গাছের ভেতরের অংশ থেকে জেল বের করা হয়। এতে মূলত থাকে পানি, পলিস্যাকারাইড, গ্লাইকোপ্রোটিন ও অ্যানথ্রাকুইনোনের মতো উপাদান।

ডা. ফারজানা জানান, ‘এই উপাদানগুলো ত্বকে শীতলতা দেয় এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। পলিস্যাকারাইড ত্বকের ওপর একটি পাতলা স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।’

এই কারণেই অ্যালোভেরাকে হিউমেকট্যান্ট বলা হয়, যা ত্বকে পানি টেনে আনে। কিন্তু সমস্যা হলো, এটি সেই আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না।

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করে। এটি ত্বককে ভারী করে না এবং পোরস বন্ধ করে না।

ডা. ফারজানা বলেন, ‘অ্যালোভেরা ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে এবং ব্রণের কারণে হওয়া লালচেভাবও কমায়।’

এছাড়া স্বাভাবিক ও মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যায়। শহরের ধুলো, দূষণ ও গরমের কারণে যে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হয়। সেখানে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে। রোদে পোড়া বা শেভের পর ত্বক শান্ত করতেও এটি উপকারী।

অনেকেই মনে করেন, যেহেতু অ্যালোভেরা ঠান্ডা অনুভূতি দেয়, তাই এটি শুষ্ক ত্বকের জন্যও ভালো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

ডা. ফারজানার জানান, ‘অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্রতা টেনে আনে ঠিক। কিন্তু সেটি ধরে রাখতে পারে না। ফলে শুষ্ক আবহাওয়া বা এসির পরিবেশে এটি উল্টো ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে পারে।’

তিনি আরও জানান, ‘শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার পর এমন কিছু ব্যবহার করা দরকার, যা ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখে।’

সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। অ্যালোভেরা পাতার বাইরের অংশে থাকা কিছু উপাদান, যেমন অ্যালোইন বা বার্বালোইন, ত্বকে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।

এছাড়া বাজারে পাওয়া অনেক অ্যালোভেরা জেলে প্রিজারভেটিভ, সুগন্ধি বা রাসায়নিক উপাদান থাকে। যা কিছু মানুষের ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ডা. ফারজানা বলেন, ‘রোসেসিয়া, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা এড়িয়ে চলাই ভালো।’

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালোভেরা সবার জন্য সমানভাবে উপকারী নয়। এটি তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করলেও শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার।

ডা. ফারজানা বলেন, ‘অ্যালোভেরা সবার জন্য নয়। এটি কিছু ত্বকে ভালো কাজ করে, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয়।’

ত্বকের যত্নে জনপ্রিয়তা দেখে কোনো উপাদান ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রতিটি ত্বকের ধরন আলাদা, তাই উপাদানও বেছে নিতে হবে সেই অনুযায়ী। অ্যালোভেরা ভালো, তবে সবার জন্য নয়।