প্যারিস ফ্যাশন উইকে মুগলারের রানওয়েতে আজরা মাহমুদ

প্যারিস ফ্যাশন উইকে ফ্যাশন ব্র্যান্ড থিয়েরি মুগলারের নতুন ফল/উইন্টার ২০২৪ সংগ্রহ উপস্থাপন করে। চলতি বছেরের ৩ মার্চের এই ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসের ঐতিহাসিক লিসে কার্নো স্কুলে। থিয়েরি মুগলারের নিমন্ত্রণে এই শোতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল, কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট আজরা মাহমুদ ও তাঁর হাজব্যান্ড দেওয়ান মুহাম্মাদ সাজিদ আফজাল।

আজরা মাহমুদ এই শোতে হাজির হন কালো রঙের শাড়ি সঙ্গে চামড়ার ব্লাউজ। আজরার পোশাক তৈরি করে দেয় হাউজ অব আহমেদ। ব্লাউজের হাতায় করা জারদৌজি আর পুরো শাড়ির জমিনে অলংকৃত ছিল পুঁতির কাজ। সাজিদ আফজাল পরেছিলেন জুরহেমের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মেহরুজ মুনিরের ডিজাইন করা কালো সিল্ক ও ভেলভেটের টাক্সিডো। তাতেও ছিল পুঁতির কাজ।

কালো রঙের পোশাকে হাজির হয়েছিলেন দুজনই। ছবি: প্রত্যয় আহমেদ ও ম্যাথিয়াস গোমেজ

ফ্যাশন শো নিয়ে আজরা বলেন, মুগলারের ফ্যাশন শো ছিল দারুণ থিয়েট্রিক্যাল ও ড্রামাটিক। সাধারণত আমরা যেমন রানওয়েতে মডেলদের আসা-যাওয়া দেখি, তেমন নয়। এতে মোট ৪১ জন মডেল রানওয়েতে হাঁটেন। মূল ফ্যাশন শো শুরু হলে প্রথমে ৪ জন মডেল হেঁটে যান। এরপর প্রথম পর্দা উন্মোচিত হয়। পর্দার পিছন থেকে আরও মডেল বেরিয়ে আসেন। আর তাঁরা একের পর এক পর্দা ফেলতে থাকেন। এভাবে লিসে কার্নো মূল হলটাকে সবার দৃষ্টিগোচর হয়। 

হলের তিন ভাগের দুই অংশ মূল রানওয়ে। বাকি একভাগ দর্শকদের বসবার জায়গা। মডেলরা মুগলারের সিগনেচার বোল্ড ও ফেমিনিন স্টাইলটাকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। কালেকশনে সিংহভাগ কালো। সঙ্গে লাল ও কিছু প্রিন্টের ব্যবহারও হয়েছে। সাধারণত মুগলারের সংগ্রহে প্রিন্ট খুব একটা দেখা যায় না। শোয়ের একদম শেষে ৪১ জন মডেল একসঙ্গে রানওয়েতে ফিরে আসেন। তখনই ব্যাকস্টে উন্মোচিত হয়।

রানওয়েতে হাঁটেন ৪১ জন মডেল। ছবি: প্রত্যয় আহমেদ ও ম্যাথিয়াস গোমেজ

ফ্যাশন শোটি এত সুন্দর ভাবে শেষ হয় যে, সামনের সারিতে থাকা ভিআইপি ও সেলিব্রেটিদের দিকে কারো সেভাবে চোখই পড়েনি। একে বলা যেতে পারে ‘দ্য শো টুকওভার’ মোমেন্ট, মন্তব্য আজরার। তিনি আরও জানান, এই ফ্যাশন শোতে ছিলেন ডাকসাইটে সেলিব্রিটিরা। মিয়া খলিফা, ব্রুকলিন বেকহাম, নিকোলা পেল্টজ, জুলিয়া ফক্স, কোরিয়ান সুপারস্টার জুংহুয়া ও বারবারা পেলভিনরা ছিলেন প্রথম সারিতে।

এই ব্র্যান্ড সবসময়ে ‘লেভেল অব মিস্ট্রি’কে বজায় রাখে। এজন্য অনুষ্ঠানস্থলে মুগলারের কোন ব্র্যান্ডিং বা সাইনেজ ছিল না। শো শুরু হয় রাত ৯টা ৫ মিনিটে। আর শেষ হয় ৯টা ১৫ তে। মানে শো’র দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১০ মিনিট। এটাই অনুধাবন করতে ব্যর্থ হন আমাদের অনেক ডিজাইনাররা। তাঁরা মানতে চান না শোয়ের ব্যপ্তি কম হলেই সবচেয়ে সুন্দর হয়, অভিমত আজরার।

শোতে এবার দেখা মিলেছে প্রিন্টের। ছবি: প্রত্যয় আহমেদ ও ম্যাথিয়াস গোমেজ

শো শেষ হওয়ার পর অনেকক্ষণ চুপ করে বসেছিলাম, বললেন আজরা। সেখানে আমার উপস্থিতিকেই আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এখনো মনে হলে আমার চোখ ভিজে ওঠে। এই আসরে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। এতটা বছর ধরে কাজ করে আমি আমার দেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পেরেছি। কোন সন্দেহ নেই এটাই আমার পরিতৃপ্তি।
ছবি: প্রত্যয় আহমেদ ও ম্যাথিয়াস গোমেজ