কেন বানাবেন ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব?

অনেকেই আছেন যাদের ঘুম থেকে উঠে অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটতে হয়। অথচ কোন পোশাকে বের হবেন, সেটাই অনেক সময় তাঁরা বুঝতে পারেন না! এ ধরণের সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব। 

ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব তৈরি করলে বাইরে যাওয়ার জন্য চটজলদি রেডি হওয়া যায়। সেই সঙ্গে খরচও কমে আসে। আর অপ্রয়োজনীয় পোশাক জমে আলমারি বোঝা হয়ে ওঠে না। তাছাড়া এই ওয়ারড্রোবে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগ থেকে শুরু করে সবকিছুর মধ্যেই থাকে সামঞ্জস্য। এক সেট অনুষঙ্গ দিয়েই আপনার পুরো সপ্তাহের আউটফিট হয়ে যাবে।

পশ্চিমা বিশ্বে ক্যাপসুল ওয়ারড্রোবের ধারণা বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এই টার্মটি আনকোরা নয়। ১৯৭০ সাল থেকেই ক্যাপসুল ওয়ার্ডরোব পরিচিত। এর প্রবর্তক হিসেবে সুজি ফক্সের নাম নেওয়া হয়। লন্ডনে ‘ওয়ারড্রোব’ নামক একটি বুটিক শপের স্বত্বাধিকারী তিনি। ফক্সের মতে, ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব এমন কিছু পোশাক ও অনুষঙ্গ থাকবে যা প্রয়োজনীয় তো বটেই, আবার পরাও যাবে সব সময়।

এরপর ১৯৮৫ সালে ডিজাইনার ডোনা কারান তাঁর প্রথম ক্যাপসুল কালেকশন নিয়ে আসেন। ‘সেভেন ইজি পিসেস’ নামের সে কালেকশনে কর্মস্থলে যাবার পোশাক থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় বেড়াতে যাওয়ার পোশাকও ছিল। 

পরিবেশের ওপর ফ্যাশন শিল্পের দূষণ কমাতে, গ্রাহকের আগ্রহে এবং টেকসই উৎপাদন বাড়াতে ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব সম্প্রতি নতুন শৈলীতে ফিরে এসেছে।   

অনলাইনের যুগে ডিজাইনার এবং পোশাক বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নামছেন, যার অংশ ক্রেতা হিসেবে আমরা সবাই। তাই তো প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অন্যের দেখাদেখি নতুন পোশাক আমাদের চাই! ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনবে। 

ক্যাপসুল ওয়ারড্রোবের জন্য সবার আগে কালার প্যালেট বাছাই করতে হবে। একবার কালার প্যালেট বাছাই হয়ে গেলে বাকি অনুষঙ্গ এমনিতেই নির্ধারিত হয়ে যাবে। জেনে নিন ক্যাপসুল ওয়ারড্রোবের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। 

সহজ সিদ্ধান্ত 

আলমারিভর্তি পোশাক থাকার পরও কারো কারো মুখে শোনা যায়, তিনি নাকি পরার মতো কিছুই পাচ্ছেন না! ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব সে ঝঞ্ঝাট থেকে নিস্তার দেবে। অপ্রয়োজনীয় পোশাক-আশাক যেহেতু থাকবে না, তাই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার কোনো সুযোগ নেই। 

খরচ কমায়

ক্যাপসুল ওয়ারড্রোবের মাধ্যমে আপনার কেনাকাটার খরচ অনেকাংশে কমে আসবে। মানসম্পন্ন, বারবার ব্যবহার করা যায় এবং আপনি প্রকৃত অর্থেই পছন্দ করেন, এমন পোশাকগুলোই তখন কেনা হবে। অপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ কেনা থেকে বিরত থাকায় আর্থিক দিক থেকে সাশ্রয় হবে।

পোশাক নিয়ে অনর্থক চিন্তা কমবে ক্যাপসুল ওয়ারড্রোবে। ছবি: ফ্রিপিক পরিবেশগত প্রভাব

প্রতিনিয়ত আমাদের বাতিল করা কাপড় ময়লার ভাগাড়ে গিয়ে জমছে, যা পরে ল্যান্ডফিল থেকে সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বাড়ছে কার্বন ফুটপ্রিন্ট। ব্যবহৃত পোশাকের সংখ্যা কমে আসলে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের মাত্রাও কমে আসবে। কম পোশাক ব্যবহারে আমাদের নদনদী, সমুদ্রে প্রতিনিয়ত মিশতে থাকা রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণও কমে আসবে। 

সময় বাঁচায়

একটা পোশাকের পেছনে কত সময় যায় বলুন তো? মাপ দেওয়া, বানানো, কেনা, মাপে ভুল হলে ফেরত, লন্ড্রি করা, গুছিয়ে রাখা, আরও কত কী! অথচ মিনিমালিস্ট ক্যাপসুল ওয়ারড্রোব থাকলে আপনার এতকিছু ভাবতেই হবে না। বেঁচে যাওয়া সময়টা বরং জরুরি এবং উৎপাদনশীল কোনো কিছুতে কাজে লাগাতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: মডার্ন মিনিমালিজম