নিজেকে ফ্যাশনেবল দেখাতে গেলে পকেটে যে টান পড়তে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিছুটা কৌশলী হলেই অতিরিক্ত ব্যয় না করেও নিজেকে ফ্যাশনেবলভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। আজকে থাকল কিছু টিপস।
বাজেট নির্ধারণ করুন
আগে একটা কিছু কেনার জন্য আমরা দিনের পর দিন মার্কেটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতাম। কিন্তু অনলাইন অর্ডারের যুগে আমাদের কেনাকাটার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে আমাদের অজান্তেই কাপড়, জুতা আর অনুষঙ্গ কেনার পেছনে অনাবশ্যক ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। মাসের শুরুতেই তাই একটি বাজেট নির্ধারণ করে ফেলুন। এরপর সে অনুযায়ী খরচ করুন।
এ ছাড়া অনলাইন শপগুলোতে বিভিন্ন সময় ডিসকাউন্ট, ক্লিয়ারেন্স সেল বা কুপনের ব্যবস্থা থাকে। অন্য সময় যে কাপড়ের দাম বেশি থাকে, তা এই সময় বেশ সস্তায় মেলে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেনাকাটায় অনেকটাই সাশ্রয় করতে পারবেন।
সব ঋতুতে, সব সময়
ফ্যাশন ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে। তবু বেসিক ওয়ারড্রোব সাজানোর সময় কিছু ‘টাইমলেস’ পোশাক রাখবেন; এগুলো সেই পোশাক, যার চল কখনো পুরোনো হয় না। যেমন-বেসিক সাদা টিশার্ট আর নীল জিন্স। সাধারণ নকশা আর কাটের কিছু পোশাক রাখতে পারেন। বলপ্রিন্ট, স্ট্রাইপ বা ডটপ্রিন্ট পোশাকের চল যেমন ঘুরেফিরে সব সময়ই থাকে। তবে আরাম আর পোশাকের মানের সঙ্গে সমঝোতা করতে যাবেন না। ভালো মানের, টেকসই পোশাক কিনলে তা অনেকদিন পর্যন্ত পরা যায়।
সঠিক রঙ বাছাই
একেক বছর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি একেক রঙকে প্রধান্য দিয়ে থাকে। কখনো উজ্জ্বল রঙ খুব চলে, আবার কখনো থাকে প্যাস্টেল রঙ ট্রেন্ডে। কিন্তু কয়েকটি নিউট্রাল টোনের পোশাক সব সময় পরা যায়। এ রঙের পোশাক থাকলে অনায়াসে চলতি ধারার পোশাকের সঙ্গে সমন্বয় করে পরতে পারবেন। সাদা, কালো, বাদামি বা বেইজ রঙের কয়েকটি পোশাক থাকলে ঘুরেফিরে যেকোনো পোশাকের সঙ্গে বহু বছর মিলিয়ে পরা যাবে।
পুরনোই হয়ে উঠুক নতুন
পকেটের ওপর চাপ না দিয়ে নতুন জামাকাপড় তৈরির অন্যতম উপায় হলো পুরোনো কাপড়ের টুকরোগুলোকেই রিসাইকেল করে ব্যবহার। নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে থাকা পোশাক দিয়ে নতুন কিছু বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিন। আলমারির কোণায় দীর্ঘদিন যাবত হয়ত মায়ের পুরোনো শাড়িটি পড়ে আছে। বান্ধবীর বিয়ে উপলক্ষে নতুন জামা না কিনে, সেই শাড়ি দিয়েই বানিয়ে নিতে পারেন জমকালো লেহেঙ্গা। খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি সবাই আপনার বুদ্ধির তারিফও করবে।
সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাক
ইনস্টাগ্রামভিত্তিক থ্রিফট স্টোরগুলোর কল্যাণে আমাদের দেশেও এখন থ্রিফটেড বা সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাক বেশ জনপ্রিয়। থ্রিফটেড পোশাকের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ধারণাই বদলে গেছে। পরিবেশগতভাবে টেকসই হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত দামের প্রায় অর্ধেক মূল্যে ফ্যাশনেবল নানা পোশাক বিক্রি হয়ে থাকে। বাজেটের মধ্যে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে থ্রিফটেড শাড়ি, টপস, স্কার্ফ, শার্টের জনপ্রিয়তা হু হু করে বেড়েছে। স্বল্প বাজেটে নিজেকে ফ্যাশনেবল দেখানোর একটি বড় মাধ্যম হতে পারে থ্রিফটিং।
তথ্যসূত্র: ডেইলি সাবাহ