সদ্য পূজার আয়োজন শেষ হলো। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, ফতুয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকই পূজায় বেশি পরেছেন সবাই। এসব পোশাকের সঙ্গে পূজার ভিড়ে নজর কেড়ে নিয়েছে তরুণীদের পরা বিভিন্ন নকশার অক্সিডাইজড গয়না।
আসলে সোনা কিংবা রূপার গয়না সব পোশাকের সঙ্গে মানায় না। ভিড়ের মধ্যে এসব গয়না পরে সব সময় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরাও করা যায় না। উৎসবে তাই ভিনটেজ অক্সিডাইজড গয়নাতেই যেন ভরসা।
কিন্তু সমস্যা হলো, একটু অযত্ন করলেই এসব গয়না কালচে হতে শুরু করে। সালফেট থাকায় অক্সিডাইজড গয়না স্বাভাবিকভাবেই কালচে ধরনের হয়। সঠিকভাবে যত্ন না নিলে তা আরও কালো এবং বেমানান হয়ে ওঠে।
পূজায় হাত-গলা ভর্তি করে অক্সিডাইজড গয়না পরেছেন তো ঠিকই; বাক্সবন্দি করে তুলে রাখার আগে জেনে নিন এ গয়নার যত্ন নেওয়ার উপায়-
যেহেতু ধাতু দিয়ে তৈরি হয় তাই অক্সিডাইজড গয়না কেনার সময় তার গুণগত মান যাচাই করে নিন। নিম্নমানের অক্সিডাইজড গয়নার ক্ষেত্রে ত্বকে এলার্জি বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
সস্তা অক্সিডাইজড গয়নার কিন্তু ওজন বেশি থাকে। অন্যদিকে, ভালোমানের গয়না দেখতে ভারি মনে হলেও তাদের ওজন হালকা। সব সময় গয়নার মানের দিকে খেয়াল রাখুন।
গয়নায় ঘাম লেগে থাকলে দ্রুত চাকচিক্য চলে যাবে। ঘামে থাকা লবণ অক্সিডাইজড গয়নার সঙ্গে বিক্রিয়া করে রঙ কালো করে দেয়। তাই পরিষ্কার কাপড় দিয়ে গয়নাগুলো মুছে বাতাসে শুকিয়ে তবেই বাক্সে ভরুন।
একই বাক্সে সব ধরনের গয়না ভরে রাখবেন না। একেক গয়না একেক ধাতু আর উপাদানে গড়া। আলাদা আলাদা পাউচে ভরে গয়না রাখলে দীর্ঘদিন ব্যবহারের যোগ্য থাকবে। এ ছাড়া বাক্সের মধ্যে তুলা দিয়ে তার ওপরে গয়না রাখুন। এতে অক্সিডাইজড গয়না আর্দ্রতা থেকে দূরে থাকবে।
গয়না পরার পর পারফিউম, ডিওডোরেন্ট, ফেস মিস্ট, প্রাইমার ইত্যাদি ব্যবহার করলে রঙ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। গয়না পরার আগেই যেন সুগন্ধি বা তরল মেকআপ সামগ্রী শুকিয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সাজের একেবারে শেষে গয়না পরুন।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে গয়নার ঔজ্জ্বল্য ফেরানোর চেষ্টা করে দেখতে পারেন। প্রথমে পানি হালকা গরম করে নিন। তারপর তাতে আধা কাপ ভিনেগার এবং দুই চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে গয়নাগুলো ডুবিয়ে রাখুন। অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখবেন। তারপর তুলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নেবেন।