ল্যামে শাড়িতে ঝলমলে নীতা আম্বানি, এর ইতিহাস জানেন?

অরিয়ান খানের ডিরেক্টরিয়াল ডেবিউ ‘দ্য ব্যান্ডস অফ বলিউড’-এর স্ক্রিনিংয়ে হাজির হয়েছিলেন নীতা আম্বানি। মুহূর্তে তিনি শুধু সবার নজর কেড়েছিলেনই না, বরং স্টাইলের দিক দিয়ে নতুন মাত্রা স্থাপন করেছিলেন। জেড-গ্রিন ল্যামে শাড়ি আর বিরল প্যারাইবা টুরমালিন ও হিরা সমৃদ্ধ নেকলেসে তিনি যেন এক অনন্য আভা ছড়িয়েছিলেন।

নীতা মুকেশ আম্বানি বিশ্বব্যাপী স্টাইল আইকন হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে তার শাড়ির সংগ্রহের জন্য। প্রতিটি শাড়ি যেন তার ভারতীয় ঐতিহ্য ও কৌচার স্টাইলের নিখুঁত সংমিশ্রণ। রিলায়েন্স চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির স্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার এক মিশনে রয়েছেন।

স্বপ্নিল প্রিমিয়ার লুক

প্রিমিয়ারে নীতা আম্বানি ডিজাইনার মানিশ মালহোত্রার জেড–গ্রিন ল্যামে শাড়ি পরেছিলেন। শাড়ির সঙ্গে পরেছিলেন সূক্ষ্ম চ্যান্টিলি লেস ব্লাউজ। যা সুওয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে অলংকৃত। মালহোত্রা জানিয়েছেন, ‘লুকটি সম্পূর্ণ করেছিলেন একটি নেকলেস দিয়ে। যা বিরল প্যারাইবা টুরমালিন এবং হার্ট-আকৃতির হিরার একটি সূক্ষ্ম ফুলের কম্পোজিশন, টারকোয়াইজ টাইটানিয়ামে সেট করা।’ এই এক্টি আনুষঙ্গিক নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে।

ল্যামে শাড়ি, রাজকীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া

ল্যামে ফ্যাব্রিক হলো এমন এক ধরনের কাপড়, যা সোনার বা রূপার সূচি ব্যবহার করে বোনা হয়। এই সূচি দিয়ে কাপড়ের ব্যাকগ্রাউন্ড বা ডিজাইন তৈরি করা হয়। ইতিহাস অনুযায়ী, এই ল্যামে ফেব্রিক ৪ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। মূলত এটি রাজপরিবার ও অভিজাতদের জন্য ব্যবহৃত হতো।

প্রাচীন আসিরিয়ার নথি থেকে জানা যায়, সোনার বা রূপার সূচি দিয়ে তৈরি কাপড় শুধুমাত্র রাজাদের অধিকার ছিল। ইউরোপে এটিকে ‘ক্লথ অফ গোল্ড’ বলা হতো। বাইবেল ও রোমান শিলালিপিতেও এর উল্লেখ আছে। ল্যামে কাপড়ের ব্যবহার গ্রীক পুরাণের ‘গোল্ডেন ফ্লিস’-এর সঙ্গে তুলনীয়।

গ্ল্যামারের জগতে ল্যামে কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক পরতেন ম্যারিলিন মনরো এবং এলভিস প্রিসলি। যা আজও ফ্যাশন ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

নীতা আম্বানির এই লুক শুধু শাড়ি বা জুয়েলারির কারণে নয়। তার শৈল্পিক উপস্থিতি ও ঐতিহ্যবাহী সমৃদ্ধি প্রদর্শনের ক্ষমতার জন্য সমাদৃত।