মিলান ফ্যাশন উইকে জর্জিও আর্মানির শেষ সৃজনযাত্রা

মিলানের মঞ্চে আলো জ্বলে উঠতেই যেন অন্য এক আবহ তৈরি হলো। এম্পোরিও আর্মানি উপস্থাপন করল বসন্ত/গ্রীষ্ম ২০২৬–এর সংগ্রহ। তবে এটি ছিল অন্যসব দিনের মতো সাধারণ কোনো প্রদর্শনী নয়। কিংবদন্তি ডিজাইনার জর্জিও আর্মানির প্রয়াণের পর এটিই ছিল তাঁর নকশা করা শেষ সংগ্রহ। তাই প্রতিটি পোশাকে, প্রতিটি পদক্ষেপে মিশে ছিল স্মৃতি, আবেগ আর নীরব শ্রদ্ধা।

অভিনব এক নীরবতা

রানওয়েতে হাঁটছিলেন মডেলরা। তাঁদের পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল আর্মানির সৃজনশৈলী। দর্শকেরা নিঃশব্দে দেখছিলেন। দিনের শেষে আর কেউ এসে অভিবাদন নিলেন না। কিং জর্জিওর আসন রয়ে গেল শূন্য, কিন্তু তাঁর ছায়া ছড়িয়ে ছিল পুরো প্রাঙ্গণে।

একজন মডেল এম্পোরিও আর্মানির বসন্ত/গ্রীষ্ম ২০২৬ সংগ্রহের একটি নকশা উপস্থাপন করছেন মিলান ফ্যাশন উইকের প্রদর্শনীতে। ছবি: রয়টার্স

ভ্রমণ শেষে শহরে ফেরা

সংগ্রহটির অনুপ্রেরণা ছিল ভ্রমণ থেকে ফেরার গল্প। একদিকে ভ্রমণের উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে শহরে ফেরার বাস্তবতা। এম্পোরিও আর্মানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই সংগ্রহের জন্ম হয়েছে ভ্রমণ শেষে শহরে ফেরার সময় যে তাড়না আর পরিবর্তনশীল অনুভূতি জাগে, তাকে ধরার আকাঙ্ক্ষা থেকে।’

মরক্কোর উষ্ণতা আর জাপানের শান্ত সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অনন্য সব পোশাক। কাপড়ে ঝলমল করেছে ইকত প্রিন্ট, কাটা-ছেঁড়ায় ফুটে উঠেছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যময় টেইলারিং।

এই সংগ্রহের জন্ম হয়েছে ভ্রমণ শেষে শহরে ফেরার সময় যে তাড়না আর পরিবর্তনশীল অনুভূতি জাগে, তাকে ধরার আকাঙ্ক্ষা থেকে। ছবি: রয়টার্স

পোশাকে আর্মানির ছোঁয়া

সংগ্রহে ছিল হালকা কটন টুইলের রোব কোট, যেগুলো গলায় বন্ধ করা যায় সহজে। ছিল সুয়েড ও সিল্ক ট্যাপেস্ট্রির হিপি ভেস্ট, রিবড কটন জ্যাকেট আর ভাঁজকরা সিল্ক শার্ট। সেগুলোর সঙ্গে মেলানো হয়েছিল ওয়াইড-লেগ কাফ ট্রাউজার কিংবা হেয়ারেম প্যান্ট। যার কিছু কালো, কিছু আবার স্বচ্ছ কাপড়ে বানানো। সবকিছুতেই ফুটে উঠেছিল তাঁর প্রিয় ইকত নকশা।

চিরন্তন এক দর্শন

স্টাইল ফ্যাশনের ঊর্ধ্বে এই ছিল আর্মানির চিরন্তন দর্শন। ধ্রুপদী সৌন্দর্য, ইতালীয় কারিগরির সূক্ষ্মতা আর সহজ সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর টান শেষ প্রদর্শনীতেও অটুট রইল।

ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ভোগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্মানি বলেছিলেন, ‘আমি যখন নকশা করি, তখন শরীর নয়, বরং এক ধরনের মনোভাব মাথায় রাখি। আমি আধুনিক নারী-পুরুষদের জন্য কাজ করি। যারা সৌন্দর্য বোঝে, সময়কে উপভোগ করে। আর নীরব আত্মবিশ্বাসে ভর করে বাঁচে।’

জর্জিও আর্মানি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবু মিলানের সেই সন্ধ্যা যেন প্রমাণ করল, তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি সূতায়, প্রতিটি নকশায়, প্রতিটি অভিব্যক্তিতে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টাইমস নাও