মুম্বাইয়ের রাত যেন আলোয় ভরে উঠেছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের রাজকীয় উপস্থিতিতে। নীতা আম্বানি ও ঈশা আম্বানির আয়োজনে নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে (এনএমএসিসি) অনুষ্ঠিত বুলগারির গালা অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি। তবে হাজির হয়েছিলেন এমন এক গয়নায়, যা দেখে চোখ ফেরানো দায়। গলায় ছিল ১০৯.২৭ ক্যারেটের ক্যাবোশন রুবেলাইটে গড়া ‘সারপেন্তি মহারানি সিক্রেট নেকলেস’। যা একসঙ্গে ধারণ করেছে ভারতের রাজকন্যাদের ঐতিহ্য ও রোমের অনন্য সৌন্দর্যের ছাপ।
নেকলেসটির রুবেলাইট পাথরের। এর চারপাশে জড়ানো ছিল পাভে-সেট হীরা ও সূক্ষ্ম ফিরোজা ইনলে। প্রিয়াঙ্কার পোশাক ছিল রাইসা ভেনেসার ডিজাইন করা সিল্ক টিউল কাওল-নেক ড্রেস। যার টানা বডিস ও ড্রেপড হিপ ডিজাইন পুরো সাজকে দিয়েছে এক আধুনিক, তবে ক্লাসিক আবেদন। চুল বাঁধা ছিল এলিগ্যান্ট বানে। আর মেকআপ ছিল ন্যূনতম। সবই যেন একমাত্র নেকলেসটির ঝলককে ফুটিয়ে তোলার জন্যই।
বুলগারির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে প্রিয়াঙ্কা উদ্বোধন করেন ‘সারপেন্তি ইনফিনিতো’ প্রদর্শনীর ভারতীয় সংস্করণ। ‘ভারত আমার চিরকালীন ঠিকানা, তাই এই প্রদর্শনীকে এখানে প্রথমবার দেখতে পাওয়া আমার জন্য গভীরভাবে বিশেষ এক অনুভূতি,’ বলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই প্রদর্শনী রূপান্তর, ঐতিহ্য ও শিল্পসত্তার এক অসাধারণ প্রতিফলন, যা বুলগারি ও ভারতের আত্মাকে একই সুরে বেঁধে ফেলে।’
‘সারপেন্তি মহারানি সিক্রেট নেকলেস’ বুলগারির কিংবদন্তি সারপেন্তি সংগ্রহের অংশ। ১৯৪৮ সালে প্রথম আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এই সংগ্রহ বুলগারির নকশা ঐতিহ্যের মেরুদণ্ড। সাপের প্রতীক থেকে অনুপ্রাণিত এই সংগ্রহে ফুটে ওঠে পুনর্জন্ম, রূপান্তর ও অনন্ত শক্তির বার্তা। প্রথমে এটি ছিল সর্পাকৃতি রিস্টওয়াচ। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়েছে হীরা, রত্ন আর এনামেলের অসংখ্য অনন্য গয়নায়।
প্রিয়াঙ্কার এই মহারানি নেকলেসটি তৈরি হয়েছে ভারতের রাজরানিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। এতে মিলেছে রোমান কারুকার্যের সূক্ষ্মতা আর ভারতীয় নান্দনিকতার রহস্যময় আবেদন। নেকলেসের প্রতিটি মডুলার সেগমেন্ট, ফিরোজা রঙের অ্যাকসেন্ট। আর হীরার ঝলক বুলগারির ‘রূপান্তর ও নবজন্ম’-এর ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
গালার লাল গালিচায় উপস্থিত ছিলেন সামান্থা রুথ প্রভু, অমীষা প্যাটেল, সারা তেন্ডুলকর, তামান্না ভাটিয়া, ত্রিপ্তি দিমরি, খুশি কাপুর, কানিকা কাপুর, ডায়ানা পেন্টি ও জেনেলিয়া দেশমুখের মতো তারকারা। তবু সবার নজর ছিল প্রিয়াঙ্কার দিকেই। যিনি যেন মনে করিয়ে দিলেন, সব রানির মুকুট লাগে না। কারও গলাতেই ঝুলে থাকে রাজকীয়তার প্রতীক, বুলগারির সারপেন্তি।
২ অক্টোবর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘বুলগারি সারপেন্তি ইনফিনিতো’ প্রদর্শনী, এনএমএসসির আর্ট হাউসে। এখানে ভারত ও আন্তর্জাতিক ২৩ জন শিল্পীর ৭৫টিরও বেশি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে রেফিক আনাদলের এআই-ভিত্তিক ইমার্সিভ ইনস্টলেশনও। সাংহাই থেকে সিউল ঘুরে মুম্বাই পৌঁছানো এই প্রদর্শনী রোমান শিল্পের সূক্ষ্মতা। আর ভারতের প্রতীকী ঐতিহ্যকে এক অনন্ত রূপে বেঁধে ফেলেছে।