মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার ‘পিপলস চয়েস’ ভোটের সময়সীমা কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাড়িয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইন, বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের দর্শক ও সমর্থকেরা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় শেষে ভোট বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই ভোট আবার চালু করা হয়। এতে অনেক দেশের প্রতিযোগীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন তাদের সমর্থকেরা।
সমর্থকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নির্দিষ্ট নিয়মে বিনা পারিশ্রমিকে ফ্রি ভোট দিচ্ছিলেন দর্শকেরা। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনে বড় পরিসরে ভোট প্রচারণা চলছিল। নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার আগেই বহু জন ভোটের লক্ষ্য পূরণ করেছিলেন। কিন্তু ভোটের সময় বাড়ানোয় তাদের সেই পরিশ্রম ‘মূল্যায়নহীন’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকেই।
অতিরিক্ত সময় চালুর পর কিছু প্রতিযোগীর পেইড ভোট অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়, এমন দাবি তুলেছেন সমর্থকেরা। বিশেষ করে মিস প্যারাগুয়ের ভোট হঠাৎ বাড়তে শুরু করায় নতুন করে বিতর্ক দেখা দেয়। যদিও পেইড ভোট কেনা প্রতিযোগিতার নিয়মের বাইরে নয়। সমালোচকেরা মনে করছেন, ভোট শেষ হওয়ার পর আবার তা খুলে দেওয়া ‘অন্যায্য সিদ্ধান্ত’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্তব্যে অভিযোগ করা হচ্ছে, বিচারকদের একজনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কারণে কি মিস প্যারাগুয়েকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে? আরও প্রশ্ন তুলছেন, একজন প্রতিযোগীর জন্য কেন কেউ ৯৩ হাজার ডলারের সমপরিমাণ ভোট কিনবেন, সেই উদ্দেশ্য কতটা স্বচ্ছ?
মিস ইউনিভার্সের ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে এই প্রথম বিতর্ক দেখা গেল তা নয়। আগেও ভোটের স্বচ্ছতা ও পেইড ভোটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এবার ভোট শেষ হওয়ার পর কোনো ঘোষণা ছাড়াই নতুন করে সময় বাড়ানোর কারণে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
সমর্থকদের বক্তব্য, ভোটিং রুল হঠাৎ বদলে যাওয়া প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। তারা বলছেন, যেসব দেশের দর্শক দিন-রাত পরিশ্রম করে ‘তাদের রানির’ জন্য ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি এটি স্পষ্ট অন্যায়। তারা ভোটিং প্রক্রিয়ার পূর্ণ ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মিস ইউনিভার্স সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। মিস ইউনিভার্সের ভোটিং অ্যাপে দেখা যায়, ১২টি ক্যাটাগরির মধ্যে ৫টির ভোট নেওয়া বন্ধ হয়েছে। তার মধ্যে জনপ্রিয় ক্যাটাগরি ‘পিপলস চয়েজ’-এরও সময় বেড়েছে। ভোট দেওয়া যাবে আজ রাত ১১টা পর্যন্ত।