ফ্যাশনে দীপিকা পাড়ুকোন বরাবরই আলাদা। তার পোশাক বাছাইয়ে কখনো থাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের আত্মবিশ্বাস, কখনো আবার দেশের ঐতিহ্যের প্রতি নীরব শ্রদ্ধা। ট্রেন্ডের পেছনে ছোটা নয়, বরং নিজের মতো করে সময়কে ধারণ করাই যেন তাঁর স্টাইলের মূল কথা। জন্মদিনে তাই ফিরে দেখা যায় সেই সব ফ্যাশন মুহূর্ত। যেখানে দীপিকার উপস্থিতি আর পোশাক একসঙ্গে মিলেমিশে হয়ে উঠেছে স্মরণীয়। যা প্রমাণ করে, ফ্যাশনে তিনি নিজেরই একটি আলাদা উচ্চতায়।
প্যারিসে লুই ভিতোঁ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন
২০২৫ সালে প্যারিসে এলভিএমএইচ প্রাইজ ফর ইয়াং ডিজাইনার্স অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আলোচনায় আসেন দীপিকা। কন্যাসন্তান জন্মের প্রায় এক বছর পর এই উপস্থিতি ছিল অনেকটাই প্রতীকী। স্টাইলিস্ট শালিনা নাথানির পরিকল্পনায় লুই ভিতোঁর স্প্রিং/সামার কালেকশনের পোশাকে তাকে দেখা যায়। এই লুক আধুনিক নারীত্বের ধারণাকে নতুনভাবে তুলে ধরে। কালো পাম্পস, সোনালি স্টাড কানের দুল আর ব্র্যান্ডের ব্যাগ পুরো সাজকে রাখে সংযত অথচ দৃঢ়। এই অনুষ্ঠানে প্রথম ভারতীয় জুরি হিসেবে দীপিকা পুরস্কার তুলে দেন জাপানি ডিজাইনার সোষি ওৎসুকির হাতে। যা তাঁর আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
স্টকহোমে লাল আশি স্টুডিও গাউন
স্টকহোমের প্রাকৃতিক পরিবেশে দীপিকা যেন হয়ে উঠেছিলেন এক চলমান শিল্পকর্ম। আশি স্টুডিওর লাল গাউন, পশমি অফ-শোল্ডার নেকলাইন আর নরম ট্রেন, সব মিলিয়ে ছিল সাহসী ও মার্জিত। এর সঙ্গে কার্তিয়েরের হীরা ও নীলকান্তমণির নেকলেস আলাদা করে নজর কাড়ে। চুল ও মেকআপ ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে সহজ। পুরো লুকটাই যেন বলছিল, অতিরিক্ত কিছু না করেও কীভাবে পোশাক আর গয়নাকে সামনে আনা যায়।
মেট গালা ২০১৯, সাহসী উপস্থিতি
দীপিকার ফ্যাশন জীবনের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ২০১৯ সালের মেট গালা। ‘ক্যাম্প: নোটস অন ফ্যাশন’ থিমে জ্যাক পোসেনের তৈরি গোলাপি স্ট্র্যাপলেস গাউন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। থ্রিডি এমব্রয়ডারি, ভাস্কর্যধর্মী গড়ন, উঁচু পনিটেল আর হীরার হেডব্যান্ড, সব মিলিয়ে এটি ছিল সাহসী সিদ্ধান্তের নিখুঁত উদাহরণ। এই লুক আজও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে।
সিঁদুরি লাল ঘরচোলা, ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা
একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দীপিকা যখন রিম্পল ও হরপ্রীতের ঘরচোলা শাড়ি পরেন। তখন সেটি শুধু ফ্যাশন নয়, একটি সাংস্কৃতিক বার্তাও হয়ে ওঠে। গাজি সিল্কে তৈরি সিঁদুরি লাল শাড়িতে বানারসি জরি, বান্ধেজ আর সূক্ষ্ম হাতের কাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘরচোলা শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব দীপিকার পছন্দকে করে তোলে আরও অর্থবহ। এই লুক মনে করিয়ে দেয়, ট্রেন্ড নয়, ঐতিহ্যই অনেক সময় সবচেয়ে শক্তিশালী স্টাইল স্টেটমেন্ট।
তোরানির ‘হুকুম কি রানি’, গল্প বলা শাড়ি
তোরানির নকশা করা বেগুনি ‘হুকুম কি রানি’ শাড়ি দীপিকার স্টাইল-যাত্রার আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ঘণ্টার পরিশ্রমে তৈরি এই শাড়ির অনুপ্রেরণা এসেছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য থেকে। সূক্ষ্ম মোটিফ, আঁচলের বিশেষ নকশা আর পোলকি-মুক্তোর গয়না মিলিয়ে লুকটি ছিল রাজকীয় অথচ সংযত। গর্ভাবস্থায় এই শাড়ি পরেই দীপিকা হয়ে ওঠেন অনেক নারীর অনুপ্রেরণা।
এই পাঁচটি ফ্যাশন মুহূর্ত একসঙ্গে দেখলে স্পষ্ট হয়, দীপিকা পাড়ুকোনের স্টাইল মানে শুধু সুন্দর পোশাক নয়। তা আত্মবিশ্বাস, সংস্কৃতি আর সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার এক ধারাবাহিক গল্প।