নারী-পুরুষের নান্দনিক ভারসাম্যে শ্যানেলের নতুন সংগ্রহ

প্যারিস ফ্যাশন উইকে ফল/উইন্টার ২০২৬ মৌসুমের নতুন সংগ্রহ উপস্থাপন করেছে ফরাসি ফ্যাশন হাউস শ্যানেল। প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রাঁ পালে আয়োজিত এই শোতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ম্যাথিউ ব্লেজি দেখিয়েছেন, কীভাবে নারীদের পোশাক পুরুষালি গঠনের মিশেলে তৈরি হতে পারে। আর পোশাকগুলো আধুনিক ও ফ্যাশনেবল।

ফ্যাশন দুনিয়ায় নারী ও পুরুষের পোশাকের বৈশিষ্ট্য মিশিয়ে নতুন ধারা তৈরি করার চেষ্টা অনেক ব্র্যান্ডই করে। তবে শ্যানেলের পোশাকে এই ভারসাম্যটি সব সময় স্বাভাবিক ও সহজ মনে হয়। নতুন এই সংগ্রহেও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

শোয়ের শুরুতেই দেখা যায় শ্যানেলের পরিচিত স্যুটের নতুন ধারা। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ফ্যাশন ডিজাইনার গ্যাব্রিয়েল ‘কোকো’ শ্যানেল নারীদের জন্য এই স্যুট জনপ্রিয় করেন। সে সময় নারীদের পোশাকে করসেট ও ভারী গঠনের প্রভাব ছিল। কোকো শ্যানেল পুরুষদের পোশাক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জ্যাকেট, ব্যবহারিক কাপড় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কাট যুক্ত করেন।

নতুন সংগ্রহে সেই স্যুটকেই আধুনিকভাবে তুলে ধরেছেন ম্যাথিউ ব্লেজি। ঢিলেঢালা বুননের টুইড, গোলাকার কাঁধের জ্যাকেট ও কিছুটা অসমাপ্ত প্রান্তের নকশা পোশাকগুলোকে দিয়েছে আরামদায়ক ও স্বচ্ছন্দ ভাব। গঠনে পুরুষালি প্রভাব থাকলেও কাপড় ও অনুপাত রাখা হয়েছে নারীর জন্য উপযোগীভাবে।

শুধু ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তিতে থেমে থাকেননি ব্লেজি। সংগ্রহে দেখা গেছে কিছু নতুন পরীক্ষা। কিছু স্যুট তৈরি হয়েছে স্বচ্ছ কাপড় বা ঝিলমিলে লুরেক্সে। আবার প্রচলিত টুইড কাপড়কেও হালকা ও পরীক্ষামূলক রূপে ব্যবহার করা হয়েছে।

পোশাকের স্তরবিন্যাসেও ছিল নতুনত্ব। অনেক ক্ষেত্রে জ্যাকেটের নিচে শার্ট ঢুকিয়ে না রেখে খোলা রাখা হয়েছে। কোথাও নিচু কোমরের কাট, আবার কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন ধরনের প্রিন্ট একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব মিলিয়ে পোশাকে তৈরি হয়েছে একটু স্বচ্ছন্দ, কিছুটা অসম্পূর্ণ অথচ পরিকল্পিত নান্দনিকতা।

এই সংগ্রহকে ‘চলমান নির্মাণপ্রক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্লেজি। শোয়ের মঞ্চও সাজানো হয়েছিল নির্মাণস্থলের মতো। এর মাধ্যমে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, শ্যানেলের ঐতিহ্য সময়ের সঙ্গে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

সংগ্রহে ১৯২০-এর দশকের ফ্যাশনের ছাপও স্পষ্ট ছিল। নিচু কোমরের পোশাক ও বক্সি ব্লেজারে ফুটে উঠেছে সেই সময়ের ‘লা গারসোঁ’ ধারা। নারীদের বালকসুলভ সিলুয়েট জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন কোকো শ্যানেল।

নতুন সংগ্রহে সেই ধারা ফিরেছে আধুনিক সাজে। পালকের ব্রোচ, ধাতব টুইড, ফিতা ও ঝিলমিলে অলংকার পোশাকগুলোকে দিয়েছে হালকা ও খেলাচ্ছলে সৌন্দর্য।

শ্যানেলের পোশাকের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারিকতা। এই সংগ্রহেও দেখা গেছে সহজে নড়াচড়া করা যায় এমন জ্যাকেট, আরামদায়ক স্কার্ট ও নিটওয়্যার। ফলে পোশাকগুলো একদিকে সৃজনশীল, অন্যদিকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও উপযোগী।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে কোকো শ্যানেল যে নারী-পুরুষের ফ্যাশনের মিশ্রণধারা শুরু করেছিলেন, নতুন এই সংগ্রহে তা আবারও নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ফ্যাশন দুনিয়ায় শ্যানেলের প্রভাব এখনো সমানভাবে টিকে আছে।