নিরাপদ আর নান্দনিকতা জন্য ষাটের দশক থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে রান্নাঘরে কিচেন হুডের ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে ধোঁয়াবিহীন রান্নাঘরের জন্য আমাদের দেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কিচেন হুডের ব্যবহার। এটি কমার্শিয়াল কিচেন হুড বা কিচেন রেঞ্জ হুড নামেও পরিচিত।
রান্নাঘর সাধারণত অনেক গরম হয়ে থাকে। আবার তেল চিটচিটে ভাবের জন্য রান্নাঘরের পরিবেশও নোংরা হয়ে ওঠে। এসব সমাধানের জন্যই মূলত কিচেন হুডের ব্যবহার বাড়ছে।
যেভাবে কাজ করে কিচেন হুড
রান্নাঘরের ধোঁয়া নির্গতের জন্য এগজস্ট ফ্যানের ব্যবহার সবারই জানা। এরই আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বলা যায় কিচেন হুডের নাম।
চুলা কিংবা কুকটপে যখন খাবার রান্না করা হয়, কিচেন হুডের ফ্যানটি তখন রান্নাঘরের আর্দ্রতা, গ্রিজ এবং ধোঁয়া সংমিশ্রিত বাতাস টেনে নেয়। ডাকটওয়ার্ক (মোটা নল) বা এয়ার সাকশন পদ্ধতির সাহায্যে রান্নাঘরের বাতাস এবং তাপ সরাসরি বাইরে পাঠিয়ে দেয়। আবার ফিল্টারের সাহায্যে বায়ু ব্যবস্থাপনায় রিসাইকলড বা পুনরায় শোধিত বাতাস ঘরে ফিরিয়েও দেয় কিচেন হুড। ফলে রান্নাঘর থাকে পরিষ্কার ও ধোঁয়ামুক্ত।
কিচেন হুডের সঙ্গে লাইটও সংযুক্ত থাকে। রান্নার তাপে বা অতিরিক্ত গরমে এই লাইট ফেটে যায় না। বরং চুলায় বসানো রান্নার যেকোনো পরিবর্তন ভালোভাবে বোঝা যায় এ আলোতে।
সুস্বাস্থ্যের জন্য নির্মল বাতাসের নিশ্চয়তা
দীর্ঘসময়ব্যাপী ধোঁয়া, চিটচিটে গ্রিজ এবং দূষণের মধ্যে থাকলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি, খুসখুসে কাশি ইত্যাদির সংক্রমণ হতে পারে।
তাছাড়া চুলার ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইডের কণা থাকে। কার্বন মনোক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত। কিচেন হুড এই ধোঁয়াকে ফিল্টারড করে রাখে। এতে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা আর থাকে না।
রান্না শেষ হওয়ার পরেও কয়েক মিনিট হুডের ফ্যান চালু রাখা উচিত। এতে রান্নার সময় উৎপন্ন ধোঁয়া থেকে শুরু করে খাবারের গন্ধ সবই বাইরে নিষ্কাশিত হয়। যেহেতু কিচেন হুড বায়ুতে অতিরিক্ত গ্রিজ উৎপন্ন হতে দেয় না, তাই চুলা বা রান্নাঘরের দেয়ালে চিটচিটে ময়লাও জমে না। সার্বিকভাবে রান্নাঘর থাকে পরিচ্ছন্ন।
রান্নাঘরের যতটুকু অংশ জুড়ে চুলা থাকে, তার পুরোটা জুড়েই কিন্তু কিচেন হুড স্থাপন করতে হয়। আপনার চাহিদা এবং চুলার আকার অনুযায়ী কিচেন হুড কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন।
তথ্যসূত্র- টাউন অ্যাপ্লায়েন্স