অনেকেরই ছোট একটি বাগানের শখ থাকে। কিন্তু ফ্ল্যাটবাড়িতে সেই স্বপ্ন অনেকেরই পূরণ হয় না। অবশ্য বাড়িতে যদি একটি ব্যালকনি বা বারান্দা থাকে, তাহলে সেখানেই সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার শখের বাগান।
এক্ষেত্রে শুধু কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। বারান্দায় বাগান করার সুবিধাও রয়েছে অনেক। যখন-তখন দেখাশোনা করা যায়। আবার যত্নআত্তির জন্য খুব বেশি সময়ও দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
বাগান শুরুর আগেই বাজেট ঠিক করে নিন। ব্যালকনি গার্ডেন কতটা খরচসাপেক্ষ হবে, তা নির্ভর করছে আপনি কোন ধরনের গাছ লাগাবেন তার ওপর।
ব্যালকনির কোন অংশে কতগুলো এবং কী কী গাছ রাখতে চান, তা ঠিক করে নিন।
এমন গাছ বেছে নিন, যাদের যত্নের জন্য আপনাকে বেশি সময় ব্যয় করতে হবে না। তবে গাছগুলো যেন সঠিক মাত্রায় পানি ও সূর্যের আলো পায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে ব্যালকনি যদি দক্ষিণ বা পশ্চিমমুখী হয়, তাহলে পানির পরিমাণ বাড়াতে হয়। গাছ কেনার আগেই কোন গাছ বারান্দার কোন দিকে রাখার উপযুক্ত তা জেনে নিন।
বাজারে বিভিন্ন আয়তন ও আকৃতির মাটি, প্লাস্টিক ও কাঠের টব পাওয়া যায়। ব্যালকনির জায়গা বুঝে টব বেছে নিতে হবে। জায়গা অনুযায়ী ছোট-বড় টব রাখতে পারেন। যেমন লম্বায় জায়গা থাকলে লতানো ফুলগাছ লাগাতে পারেন।
আবার ব্যালকনির ছাদ বা রেলিং থেকে ছোট ছোট হ্যাঙ্গিং পটে রঙিন ফুলের গাছ ঝুলিয়েও দিতে পারেন।
বাগানের জন্য আরও দরকার পানির পাত্র, নিড়ানি, ডালপালা ছাঁটার জন্য কাঁচি, পোকামাকড় রোধে কীটনাশক, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি। নার্সারিতে যেমন এসব মেলে, তেমনি অনলাইন বিভিন্ন সাইট থেকেও আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কিনে নিতে পারবেন।
সব রকম ফুল বা গাছ সব মৌসুমে হয় না, তাই ঋতুর পরিবর্তনের সাথে আপনার ব্যালকনি বাগানের গাছও বদলাতে থাকুন।
ব্যালকনির গাছগুলোতে মাসে একবার জৈব সার দিতে হবে। রান্নাঘরের পরিত্যক্ত তরকারির খোসা ছোট করে কেটে গাছের গোড়ায় দেওয়া যায়। চালধোয়া পানি দিতে পারেন। আবার ব্যবহৃত চা-পাতাও গাছের জন্য উপকারী।
মনে রাখবেন, খুব কড়া রোদে গাছে পানি দেয়া যাবে না। যদি দেখেন আপনার টবের মাটি ভিজে রয়েছে তাহলেও পানি দেবেন না। পানি দিতে দিতে টবের মাটি শক্ত হয়ে এলে, মাটি কুপিয়ে আলগা করে নিতে হবে।