শহুরে ব্যস্ত জীবনে নিজের প্রশান্তির জন্য খানিকটা সময় বের করাও আজকাল খুব কঠিন। দূরে কোথাও যেতে হবে না, যথাযথ পরিকল্পনা করলে নিজের ঘরের বারান্দাতেই দু’দণ্ড শান্তি পাওয়া সম্ভব।
বারান্দা সাজিয়ে তোলার মূল উদ্দেশ্যও এমন একটি জায়গা তৈরি যেখানে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। চার দেয়ালে ঘেরা বৈঠকখানা নয়, বরং প্রিয় সঙ্গীতের সুরে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বারান্দায় বসেই প্রকৃতির রূপ অবলোকন করতে পারবেন।
বারান্দাকেই কীভাবে বসার ঘরের মতো বানিয়ে নেবেন, রইলো তার উপায়।
সবুজায়ন
বাগান বা গাছগাছালির প্রতি আগ্রহ থাকলে আপনার সৃজনশীলতা দিয়ে সাজিয়ে তুলুন আপনার বারান্দা। বারান্দায় যেহেতু সচরাচর রোদ কম থাকে, তাই এখানে লাগিয়ে দিন কয়েক প্রজাতির পাতাবাহার। লাগাতে পারেন মানিপ্ল্যান্ট, কয়েনপ্ল্যান্ট, লাকিব্যাম্বু, মনস্টেরা, এরিকা পাম, ইঞ্চিপ্ল্যান্ট, স্পাইডারপ্ল্যান্টের মতো গাছ। বারান্দায় যেহেতু জায়গার সঙ্কট থাকে, তাই মাটির পাশাপাশি নানা আকারের রঙবেরঙের ঝোলানো টবে গাছ লাগাতে পারেন। ছোট একটি তাক বা টুল পেতে তাতে রাখতে পারেন ক্যাকটাস, বনসাইসহ বিভিন্ন গাছ। আবার রেলিং বেয়ে নামিয়ে দিতে পারেন লতানো উদ্ভিদ।
জলজ বাগান
আজকাল বারান্দায় জলাধার বা জলজ বাগান তৈরির চলও খুব জনপ্রিয়। পুরো বারান্দার আবহ নিমিষে বদলে দিতে পারে একটি ‘ওয়াটার গার্ডেন’। এমন ডেকোরেশনের জন্য বেছে নিন কাঁচ, মাটি বা সিরামিকের বড় পাত্র। এ ক্ষেত্রে এক রকম গাছ না রেখে একাধিক গাছ মিশিয়ে রাখুন। মানি প্ল্যান্ট, পদ্ম, শালুক, লাকি ব্যাম্বু, ইংলিশ আইভি, ফিলোডেনড্রন, ওয়াটার লেটুস, ফার্ন ইত্যাদি উদ্ভিদ পানিতে দিব্যি বেঁচে থাকে।
মানানসই আসবাব
বারান্দার মেঝে আর্টিফিশিয়াল গ্রাস কার্পেট দিয়ে মুড়ে দিতে পারেন। এই কার্পেট পরিষ্কার করাও বেশ সহজ। এবার চাইলে এই কার্পেটের ওপর বেতের চেয়ার এবং একটি ছিমছাম টেবিল যোগ করতে পারেন। মাটিতে ছোট মাদুর পেতে কুশন দিয়ে সাজালেও নান্দনিক লাগবে। বারান্দার ক্ষেত্রে ফোল্ডিং ফার্নিচার অর্থাৎ ভাঁজ করা যায় এমন আসবাব ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার সুবিধা মতো যখন ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন।
দেয়াল ও আলোকসজ্জা
আধুনিকতার ছোঁয়া রাখতে বারান্দার দেয়ালে সুন্দর ফ্রেমের একটি আয়না রাখতে পারেন। আবার টাঙিয়ে দিতে পারেন সুতার কাজ করা বড় একটি ড্রিম ক্যাচার। বিভিন্ন লাইট ঝুলিয়েও বারান্দায় আনতে পারেন পরিবর্তন; রেলিং জুড়ে বসিয়ে দিতে পারেন এলইডি লাইট। এতে সন্ধ্যার পর এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি হবে।
যেভাবেই সাজানো হোক, বারান্দা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা খুব দরকার। বারান্দায় যেন ময়লা বা বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।