এই প্যারেন্টিং কৌশলে সন্তান হবে সফল ও আত্মবিশ্বাসী

ধরুন, আপনার সন্তান সবে দুইয়ে পা দিয়েছে। এজন্য আপনি তাকে চুলার ধারে আসতে দেন না, কারণ এতে নিরাপত্তার ব্যাপার আছে, দুর্ঘটনার ভয় আছে। কিন্তু আপনি অবলীলায় তাকে বিস্কুটের কৌটা দিয়ে খেলতে দেন। এতে কখনও ঘর নোংরা হয়, আবার কখনও শিশুটির পোশাক। 

কিন্তু আপনি জানেন সেই খেলার মধ্য দিয়েই আপনার সন্তান পরিচ্ছন্নতা এবং ঘর গোছানোর শিক্ষা অর্জন করছে। খেলাশেষে আপনার কথামতো সে নিজেই বিস্কুটের কৌটা জায়গামতো রেখে আসে।

লাইটহাউস প্যারেন্টিং আসলে এমনই। বাতিঘর বা লাইটহাউস যেমন মাঝ সমুদ্রে পথভ্রষ্ট নাবিককে দিশা দেখায়, তেমনি অতিরিক্ত নজরদারি না করে মা-বাবা যখন পাশে থেকে তাঁদের সন্তানকে পথনির্দেশ দিয়ে থাকেন, সেটিকে বলে লাইটহাউস প্যারেন্টিং।

এর আগে জেনে নেওয়া যাক প্রাসঙ্গিক আরও দুই ধরনের অভিভাবকত্বের কথা। এগুলো হলো: হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং এবং ফ্রি-রেঞ্জ প্যারেন্টিং। 

হেলিকপ্টার প্যারেন্টিংয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, তাঁদের সামনের রাস্তাটি কী হওয়া উচিত, তাঁরা তা নিজেরাই নির্ধারণ করে দেন। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ফলে সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়, সন্তানেরা ধীরে ধীরে সবকিছুতে মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। 

সন্তান যে বয়সে যে কাজ করতে সক্ষম, তাকে নিজ থেকে সেটিই করতে দেওয়া উচিত। কিন্তু ফ্রি-রেঞ্জ প্যারেন্টিংয়ে কখনও কখনও বাবা-মায়েরা সন্তানকে বড্ড বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেন। সন্তানকে ভালবাসলেও তার অন্যায় আবদার বা আচরণকে যে প্রশয় দেওয়া উচিত নয়, সেটি তাঁরা ভুলে যান! ফলে সন্তানের জন্য এই ধারার অভিভাবকত্বও সব সময় বাস্তবসম্মত নয়। 

প্যারেন্টিং কনসালট্যান্টদের মতে, অভিভাবকত্ব এমন হওয়া উচিত যেখানে বাবা-মায়েরা সব সময় সন্তানের পাশে থাকবেন, তবে তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। এখানেই নাম আসে লাইটহাউস প্যারেন্টিংয়ের। এই ধরনের অভিভাবকত্বের মূল নীতি হলো ভারসাম্য। এখানে অতিরিক্ত নজরদারি এবং ছাড় দেওয়ার মধ্যবর্তী পন্থা গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়েছে। 

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ফলে সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। ছবি: ফ্রিপিক

লাইটহাউস প্যারেন্টিংয়ে শিশুর বিকাশ

নিয়ম বানান, সঙ্গে ব্যাখ্যা দিন

সন্তান যেন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে ভাবতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে স্বাধীনতা তার থাকবে। তবে অভিভাবক হিসেবে আপনার দিক থেকেও থাকবে একাধিক শর্ত। চাপ প্রয়োগ না করে তাঁকে বুঝিয়ে বলতে হবে এসব শর্ত দেওয়ার কারণগুলো। যেমন- ‘রাত ৯টার পর মোবাইল ফোন ধরবে না’। এভাবে ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে আপনি তাঁকে মোবাইল ব্যবহারের অপকারিতাগুলো বুঝিয়ে বলবেন।  

চেষ্টাটা দেখুন, ফলাফল নয়

কী ফল এলো সেদিকে তাকানোর পরিবর্তে সন্তান যে চেষ্টাটুকু করেছে, তার মূল্যায়ন করুন। সন্তানের কাছে থেকে বাবা-মা হিসেবে কী চাইছেন, তা স্পষ্ট করে বলা উচিত। সেই প্রত্যাশা যেন সন্তানের কাছে চাপ না হয়ে দাঁড়ায়, সেটুকু নিশ্চিত করাও আপনারই কর্তব্য।

ব্যর্থতা গ্রহণ করতে শেখান

ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার শিক্ষা জীবনের একটা বড় শিক্ষা। সবসময় জিততেই হবে, পরীক্ষায় ভালো ফল করতেই হবে, এ ধারণা শিশু সন্তানের মনে ঢুকিয়ে দেবেন না। ব্যর্থ হলে জিজ্ঞেস করুন, এর থেকে সে নতুন কী শিখল এবং সামনে কীভাবে আরও ভালো ফল করা যায়।

শুধু মনে রাখবেন সমস্যার সমাধান করে দেওয়া নয়, বরং দিকনির্দেশের কথা বলে সব সময় সন্তানের পাশে থাকাটাই লাইটহাউস প্যারেন্টিং।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস