অর্ধেকের বেশি বাবা-মা এখন সন্তানকে বই পড়ে শোনাতে চান না

এক সময় শিশুর ঘুমের আগে বই পড়ে শোনানো ছিল বাবা-মায়ের প্রিয় কাজ। এখন সেই অভ্যাস অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী সন্তানের প্রতি অর্ধেকের বেশি বাবা-মা মনে করেন না যে, পড়ে শোনানো মজার কোনো কাজ। ফলে ছোটদের মধ্যেও পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেনআইকিউ সহযোগিতায় এই জরিপ করেছে জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা হারপারকলিন্স। তারা বলছে, শিশুরা এখন বই পড়াকে মজা নয়, শুধু পড়াশোনাই মনে করছে। যার পেছনে অনেকটাই দায়ী অভিভাবকরাই।

জরিপ বলছে, ৫ থেকে ১৩ বছর বয়সী অনেক শিশু পড়াকে আর আনন্দের কিছু মনে করে না। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মনে করে, পড়া মানে পড়াশোনা। এই চিন্তা শিশুদের বই থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

বাড়িতে বই পড়ে শোনানো কমে যাওয়াও এর বড় কারণ। এখন মাত্র ৪১ শতাংশ বাবা-মা তাদের ৪ বছরের কম বয়সী সন্তানদের নিয়মিত পড়ে শোনান। অথচ ২০১২ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ, মানে এক দশকে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।

ছেলে শিশুরা আরও বেশি বঞ্চিত

জরিপে দেখা গেছে, ০ থেকে ২ বছর বয়সী ছেলে শিশুরা মেয়েদের তুলনায় অনেক কম গল্প শুনছে। ছেলেদের মাত্র ২৯ শতাংশ প্রায় প্রতিদিন গল্প শুনছে, যেখানে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৪ শতাংশ। এমনকি ২২ শতাংশ ছেলে শিশুকে একেবারেই গল্প পড়ে শোনানো হয় না।

স্কুলেও পড়া শোনানো কমে গেছে

শুধু বাড়িতেই নয়, স্কুলেও গল্প শোনানোর সুযোগ কমছে। ২০২৪ সালে মাত্র ২৪ শতাংশ শিশু প্রতিদিন স্কুলে গল্প শুনেছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ২৯ শতাংশ। শিক্ষকদের কাছ থেকেও শিশুরা আগের মতো গল্প শুনছে না।

গল্প শোনালে শিশুরা নিজেরাও পড়তে শেখে

হারপারকলিন্স চিলড্রেন’স বুকসের পরিচালক অ্যালিসন ডেভিড বলছেন, ‘শিশুদের যেকোনো কিছু পড়ে শোনালে তারা পড়াকে উপভোগ করতে শেখে। যেসব শিশু প্রতিদিন গল্প বা যেকোনো কিছু পড়া শোনে, তারা নিজেরাই পড়তে আগ্রহী হয়। এই সংখ্যা দাড়াই সাপ্তাহিক পড়া বা গল্প শোনা শিশুদের চেয়ে তিন গুণ বেশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার অনেক শিশু এমন ঘরে বড় হচ্ছে, যেখানে পড়ার কোনো আনন্দ নেই। তাই পড়া তাদের কাছে আনন্দের বিষয় নয়, বরং পরীক্ষার চাপের মতো মনে হচ্ছে।’

এর পেছনে কারণ কী?

এই সমস্যা বেশি দেখা যায় তরুণ বাবা-মায়েদের মধ্যে, যাদের বলা হয় ‘জেনারেশন জেড’। এই প্রজন্মের অনেকেই নিজেরাও পড়া পছন্দ করেন না। জরিপে দেখা গেছে, এদের ২৮ শতাংশ পড়াকে শুধু শেখার বিষয় হিসেবে দেখে, মজার কিছু নয়। আবার অনেকেই বইয়ের চেয়ে মোবাইল বা টিভির দিকে বেশি মনোযোগী।

তথ্যসূত্র: ফরচুন