সন্তান পড়তে চায় না? আগ্রহ ফেরাবেন যেভাবে

বর্তমান ইন্টারনেট ও এআইয়ের যুগে বই-খাতার প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইনের গেম, ভিডিও, সোশ্যাল মিডিয়া, সবই তাদের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। অনেক সময় বাবা-মায়েরা বোঝেন না, সন্তানকে জোর করে পড়াতে বসানোও সমাধান নয়। রোজকার রাগ বা ধমক বাচ্চার চাপ সৃষ্টি করে, সেই সাথে কমিয়ে দেয় আগ্রহ। তবে কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে সন্তান নিজে থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করবে।

নির্দিষ্ট রুটিন বানান

প্রতিদিন কখন পড়বে, কখন খেলবে, সেটা আগে থেকে ঠিক করে দিন। পড়ার সময়ে অন্য কোনো কাজকে অনুমতি দেবেন না। খেলাধুলার সময়ে পড়াশোনার কথা বলবেন না। রুটিন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুললেই সন্তান বুঝবে কখন পড়ার সময়। আর  কখন সে খেলতে পারবে।

বকাবকি না করে বোঝান

বাচ্চা যদি পড়তে চায় না, রাগ বা চেঁচামেচি করার বদলে ধৈর্য ধরে তাকে বোঝান। পড়াশোনা না করলে স্কুলে বা ভবিষ্যতে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, এ ধরনের বাস্তব উদাহরণ দিন। মেজাজ হারালে সে জেদি হয়ে যাবে। কিন্তু বোঝানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।

লোভ বা প্রতিশ্রুতি নয়, প্রশংসা করুন

‘পড়াশোনা করলেই নতুন গ্যাজেট/চকলেট দেব’-এ ধরনের লোভ বাচ্চাদের স্বাভাবিক আগ্রহকে নষ্ট করে। বরং পড়াশোনা শেষে ছোট ছোট আনন্দের সুযোগ দিন। যেমন প্রিয় খেলায় কিছু সময় দেওয়া বা তার কাজের প্রশংসা করা। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নয়, চেষ্টা ও পরিশ্রমকে উৎসাহিত করুন। এতে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় এবং পাঠ্যবইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।

প্রতিদিন ধৈর্য ধরে এই কৌশলগুলো অবলম্বন করলে, সন্তান নিজে থেকেই বই-খাতার প্রতি আগ্রহী হবে। আগ্রহের সঙ্গে পড়াশোনা করলে, হোমওয়ার্কের চাপও কমবে এবং হাতে খাতা ধরে বসার সময় সে আনন্দ পাবে।