একাকিত্ব কষ্ট, তবুও সিঙ্গেল থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তরুণরা, কিন্তু কেন?

সারা জীবন একা থাকা কি সত্যিই কঠিন? এই প্রশ্নের উত্তর সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন তারা, যারা নিজের ইচ্ছায় বা পরিস্থিতির কারণে ‘সিঙ্গেলহুড’ বেছে নিয়েছেন। কেউ সম্পর্কের জটিলতা এড়াতে চান, কেউ খুঁজে পান না মনের মতো মানুষ, আবার কারও কাছে একা থাকা মানেই স্বাধীনতা। সময় বদলেছে, মন-মানসিকতাও বদলেছে। আজকের তরুণ-তরুণীর এক বড় অংশ সম্পর্কের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই তারা ইচ্ছে করেই সিঙ্গেল থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

সম্প্রতি ভারতের একটি জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ সিঙ্গেলদের নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছে। সেখানে উঠে এসেছে সম্পর্ক এড়ানোর পেছনের নানা মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৯ শতাংশ সিঙ্গেল মানুষ স্বীকার করেছেন, একা থাকলে মাঝে মাঝে একাকিত্ব তাদের কষ্ট দেয়। ডিজিটাল যুগে নানান যোগাযোগমাধ্যম থাকা সত্ত্বেও তারা মনে করেন, মনের মতো একজন মানুষ না থাকলে সেই শূন্যতা থেকেই যায়। তবু অনেকেই সম্পর্কের চাপ এড়াতে বা স্বাধীন থাকতে সিঙ্গেল থাকা পছন্দ করেন।

অন্যদিকে, ১৬ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা ইচ্ছে করেই সিঙ্গেল। তাদের মতে, জীবনে যেন কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে, এই স্বাধীনতা তাদের সবচেয়ে বেশি টানে। নিজের মতো থাকা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার আনন্দ তারা হারাতে চান না।

জেনজিদের সিঙ্গলহুড আলাদা কেন?

জেনারেশন জেড প্রজন্ম, যারা ডিজিটাল যুগে বড় হয়েছে, তাদের সিঙ্গেলহুডের অভিজ্ঞতা আরও জটিল। সমীক্ষা বলছে, জেনজিদের ৩১ শতাংশ মনে করেন, সিঙ্গেল থাকলে তারা আরও বেশি একাকিত্বে ভোগেন।

এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, নিজের সময়, নিজের ব্যক্তিত্ব, নিজের সীমারক্ষা, এসবের বিষয়ে খুব পরিষ্কার। কিন্তু একই সঙ্গে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে তাদের মনে তুলনা, অসন্তোষ আর মানসিক চাপও বেশি তৈরি হয়। স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানো ‘পারফেক্ট দাম্পত্য জীবন’ অনেক সময় তাদের নিজের বাস্তব সিঙ্গেলহুডকে আরও ভারী করে তোলে।

মিলেনিয়ালদের ভাবনা আলাদা

অন্যদিকে মিলেনিয়ালদের ক্ষেত্রে গল্পটা একটু অন্যরকম। এই প্রজন্মের ২৫ শতাংশ মনে করেন তারা এখনো সঠিক জীবনসঙ্গী পাননি, তাই সিঙ্গেল থাকা ছাড়া উপায় নেই। তারা সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন, কিন্তু ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ঝুঁকি নিতে চান না। তাই অপেক্ষা করতে তাঁদের আপত্তি নেই।

একাকীত্বও কী উপভোগ করা যায়?

একটা সময় ছিল, সিঙ্গেল থাকাকে অনেকেই সমস্যা ভাবতেন। এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে। আজকের তরুণেরা সিঙ্গল থাকাকে ব্যর্থতা নয়, বরং নিজের জীবনকে নিজে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তারা জানেন, বন্ধুত্ব, পরিবার, কাজ, ভ্রমণ, নিজের পছন্দ-অপছন্দ…এসব নিয়েও জীবন দারুণভাবে উপভোগ করা যায়।

তবে বেশির ভাগ সিঙ্গলই মনে করেন, তারা সারাজীবন একা থাকতে চান না। বরং সঠিক মানুষ এলে, সম্পর্কের প্রতি মন খুলে দিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু ভুল মানুষের সঙ্গে সমঝোতা করার চেয়ে সিঙ্গল থাকাই তাদের কাছে বেশি স্বস্তির।

জেনারেশন জেড হোক বা মিলেনিয়াল, সবার মধ্যেই একটা পরিবর্তন স্পষ্ট। আজকের দিনে সিঙ্গল থাকা মানেই সম্পর্কভীতি নয়, বরং নিজের প্রতি দায়বদ্ধ হওয়া। স্বাধীনতা, মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান, এই তিনটি বিষয়কে অনেকেই এখন সম্পর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সঠিক মানুষ না পাওয়া পর্যন্ত নিজের মতো থাকা, এই মানসিকতাই আজকের সিঙ্গলহুডকে নতুন অর্থ দিচ্ছে।