সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানতে শুরু হয়েছে ক্যামেরা ট্র্যাপিং। পুরো বনের প্রায় ৪৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার জরিপের কাজ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের এপ্রিলে। এবারের জরিপে বাঘের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা গবেষকদের। সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি।
সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের খালে বসেছে প্রায় সাড়ে তিন শ ক্যামেরা। স্থাপন করা হয়েছে মাটি থেকে ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে। ক্যামেরার সামনে দিয়ে কোনো বাঘ বা অন্য যে কোনো প্রাণি গেলেই তার ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারণ হয়। ১৫ দিন পরপর এই ক্যামেরার ব্যাটারি ও মেমোরি কার্ড পরিবর্তন করা হয়। এভাবেই সুন্দরবনে তৃতীয় বারের মতো শুরু হলো ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে বাঘ গণনা।
বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প পরিচালক ড. আবু নাসের মহসিন বলেন, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে হারবারিয়া ১৪৭ গ্রিডে ও পূর্ব শরণখোলার কটকা, কচিখালী, সুপতি এলাকায় ১৮০ ক্যামেরা ট্র্যাপিং করা হয়েছে। ৫০ দিন চলবে মাঠের তথ্য সংগ্রহ। পশ্চিম সুন্দরবনের হারবারিয়া থেকে চরাপুটিয়া, কোকিল মুনিয়া, দুবলারচরে ক্যামেরা থাকছে। ৫০ দিন ধরে চলবে এই কাজ। এর পর তথ্য উপাত্ত্বগুলো বিশ্লেষণ করে জানান হবে।
সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে মোট ৪৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাঘ গণনার কাজ শুরু হয়েছে নভেম্বরে। ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘের মুখমণ্ডল ও ডোরা কাটা ছাপ বিশ্লেষণ করে বাঘের সংখ্যা বের করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ আজিজ বলেন, মানুষের হাতের ছাপের মতো বাঘের ডোরা কাটা দাগ। যা কারও সাথে মেলে না। মুখের ও শরীরের ছবি দেখে স্বতন্ত্র বাঘ গণনা করা হয়। এটাই আধুনিক প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে এবার সুন্দরবনে অন্তত অর্ধেক এলাকায় জরিপ শেষ হবে। এতেই জানা যাবে পুরো বনের বাঘের সংখ্যা।
গবেষকরা বলছেন, ২০১৩-১৪ সালে প্রথমবার সুন্দরবনে বাঘ জরিপ শুরু হয়। ওই জরিপে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘ আছে বলে জানা যায়। ২০১৮ সালের জরিপে ১১৪টি বাঘের তথ্য পাওয়া যায়। আগামী বছরের এপ্রিলে নতুন জরিপের কাজ শেষ হবে। জুলাইয়ে বাঘ দিবসে প্রচার করা হবে বাঘের বর্তমান সংখ্যা।