শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তাঁর মেয়ে মনিকা ইউনূস। সরকার ও ড. ইউনূসের একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন মনিকা।
মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মনিকা। মনিকা জানান, এর আগেও সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ইউনূসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সমস্যা দাবি করে মামলাটি দেওয়ানি আদালতে চালানো উচিত বলেও জানান মনিকা। দাবি করেন, ড. ইউনূস ও তাঁর সহকর্মীরা শতভাগ নির্দোষ।
আন্তর্জাতিক আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মনিকা বলেন, ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি চাই, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হোক।’
এর আগে, গত রোববার শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় স্থায়ী জামিন পান গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজন। সেদিন সকাল ১০টার দিকে শ্রম অ্যাপিলিয়েট ট্রাইব্যুনালে নিজে উপস্থিত হয়ে আপিল করেন ড. ইউনূস। এরপর শুনানিতে বিচারক ড. ইউনূসসহ চারজনকে স্থায়ী জামিন দেন।
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা শ্রম আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে পারেন। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাঁদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।
মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও আসামি করা হয় গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে।