নোঙর করেছে ছিনতাই হওয়া জাহাজ, যেকোনো সময় যোগাযোগ

জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়ার গারাকাড উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করেছে। 

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার পর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যেকোনো সময় জলদস্যুরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জলদস্যুরা এখন পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করেনি। মুক্তিপণের বিষয়টি মিডিয়ার সৃষ্টি।

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) বরাত দিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশনও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমালিয়ার গারাকাড উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করেছে এমভি আবদুল্লাহ। এখনও পর্যন্ত জাহাজ থেকে মালিকপক্ষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। 

সংস্থাটি মনে করছে, জাহাজ থেকে জলদস্যুদের যোগাযোগ করতে ২ থেকে ৩ দিন বা এরও বেশি সময় লাগতে পারে। 

গত ৪ মার্চ বাংলাদেশের এস আর শিপিংয়ের ১৩ মিটার গভীরতার জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর গত মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে খবর আসে, ভারত মহাসাগরে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে। জাহাজের ২৩ নাবিককে স্পিডবোটে সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন একজন।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আছেন ১১ জন। বাকিরা ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার। আক্রান্ত নাবিকদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা।

জাহাজটি ছাড়িয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে এস আর শিপিং। এজন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

এস আর শিপিংয়ের মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সব সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ পরিচালনা করছি। তারা আমাদের যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।’

আরও পড়ুন: