ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে ট্র্যাকিং করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি জাহাজ। গতকাল বুধবার ইইউর পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) বরাত দিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়ার গারাকাড উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করেছে।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। সে সময়ে জাহাজটি সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৭০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। জাহাজে থাকা ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু বর্তমানে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি।
এ নিয়ে ইইউর নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটলান্টা অপারেশনের অংশ হিসেবে ইইউর জাহাজ বাংলাদেশি জাহাজটিকে অনুসরণ করছে। ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের তৎপরতা এড়াতে এবং প্রতিহত করতে কাজ করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অপারেশন আটলান্টা। এর অন্তর্ভুক্ত একটি জাহাজই ‘এমভি আবদুল্লাহকে’ ছায়ার মতো অনুসরণ করছে।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে থাকা নাবিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাসিন্দা আছেন ১১ জন। বাকিরা ফেনী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার। আক্রান্ত নাবিকদের সবাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এস আর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা।
জাহাজটি ছাড়িয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে এস আর শিপিং। এজন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
এস আর শিপিংয়ের মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সব সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজ পরিচালনা করছি। তারা আমাদের যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
- গারাকাড উপকূলের আরও কাছে ছিনতাই হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ
- জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজের অবস্থান শনাক্ত
- নোয়াখালীর সালেহ আহমদকে ফেরত চায় পরিবার
- জলদস্যুদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ হয়নি: বিএমএমওএ
- নাবিক সাইদুজ্জামানের মায়ের নির্ঘুম চোখে শুধুই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি
- জলদস্যুদের হাতে বন্দি তারেকুল মা-বাবার আহাজারি
- একমাস আগে বাবা মারা যায় নাবিক আইয়ুবের, ছেলের চিন্তায় মায়ের আর্তনাদ


নোঙর করেছে ছিনতাই হওয়া জাহাজ, যেকোনো সময় যোগাযোগ
