বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে তিনটি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মেজবাউল হক বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়তই যোগাযোগ রাখছি। তারা যে কার্যক্রমগুলো করছে, আমরা সেটা সম্পর্কে অবগত আছি।’
মঙ্গলবার রাতে তারাবি নামাজের সময় বান্দরবানের রুমা শাখা সোনালী ব্যাংক ও আশেপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে শতাধিক সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদ থেকে ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে ধরে নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে মারধর করে তারা। পরে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১০ পুলিশ ও ৪ আনসার সদস্যকে নিরস্ত্র করে ৮টি চাইনিজ অটোমেটিক রাইফেল, ২টি এসএমজি, ৪টি শটগান ও ৪১৫ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ২ পুলিশ সদস্য আহত হন।
মঙ্গলবারের এ ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পর থানচিতে আরও দুটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে জানান, বুধবার বেলা ১টার পর থানচির সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি লুট হয়েছে। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ। এ ঘটনার পর বান্দরবানে বিভিন্ন উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের ৬টি শাখা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ ইনডিপেনডেন্টকে জানান, রুমা সদরের আক্রান্ত সোনালী ব্যাংকের ভল্টের টাকা অক্ষত আছে। তিনি বলেন, ‘সিআইডি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ইউনিটের দুটি দল বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পরে ব্যাংকের ভল্ট খুলে সব টাকা গুনে দেখা হয়। মঙ্গলবার রাখা ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অক্ষত রয়েছে।’