দুই বছরেও লুটের ১৩শর বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। কারাগার থেকে পালানো প্রায় সাতশ বন্দিও এখন পর্যন্ত অধরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে লুটের অস্ত্র ও পলাতক আসামিদের সম্পৃক্ততায় বেড়েছে উদ্বেগ।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ গেছে দেশের বাইরে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, অস্ত্র উদ্ধার ও ফেরারি আসামিদের আইনের আওতায় না আসলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। গত বছর একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৯৪৭টি। এই সাত মাসে সারা দেশে ১২৩টি গুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৯ জন।
এদিকে, এখন পর্যন্ত পুলিশের লুট হওয়া এক হাজার ৩১১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে চায়নিজ রাইফেল ১০৯টি ও ৩০টি এসএমজি রয়েছে। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো ২ হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে এখনও পলাতক ৬৯০ জন। কোন নথি নেই ১৬৬ জনের। যাদের অনেকেই এখন বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা, চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জড়িত ভাড়াটে খুনি, চরমপন্থি ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুরা।
পুলিশ সদরদপ্তরের দাবি, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি ধরতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র আমরা খুবই সিরিয়াসলি দেখি। সীমান্তের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদ্য সাবেক সদস্য বলছেন, বাহিনীগুলো আন্তরিক। আর অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী ও লুট হওয়া অস্ত্র সংকট বাড়াচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, পেশাগত সমন্বয়ের ঘাটতি এখনও আছে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায়ে এটা আছে। শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে পেশাগত ঐক্যের অভাব আছে।
সাবেক র্যাবপ্রধান এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে। এটা অব্যশই হুমকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি সারা দেশে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে মিলবে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পুরস্কার।



