গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আবেদন করেছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন তিনি।
এ সময় সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘আর কিছুদিন সময় পেলে তো মনে হয় পুরো গোপালগঞ্জই কিনে ফেলতেন উনি। বৈধ বা অবৈধ পরে। যে সম্পদ বানিয়েছেন আর কিছুদিন হলে, ওনার জমির উপর দিয়ে আমাদের বঙ্গবন্ধুর মাজারে যেতে হতো। উনি যে জায়গাতেই গেছেন মাশাল্লাহ সম্পদের মালিক হয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা তদন্ত করে প্রোপারলি আমাদের কাছে আশা উচিত।’
সম্প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের বিপুল সম্পদের কথা তুলে ধরে। এতে দাবি করা হয়, গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত ভাওয়াল রিসোর্ট রয়েছে বেনজীরের। ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল প্রায় ১০৬ বিঘা জমির ওপর এটির যাত্রা শুরু। পরে এতে যোগ হয় আরও ৫৪ বিঘা জমি। ৬২টি ভিলার সঙ্গে হেলিপ্যাড, রেস্তোরাঁ, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, স্পাসহ অনেক কিছু রয়েছে এর ভেতরে।
কালের কণ্ঠের দাবি, এই রিসোর্টের একটি বড় অংশই গড়ে তোলা হয়েছে বনের জমি জবরদখল করে। এতে নেপথ্যে থেকে সাহস যুগিয়েছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। কেননা এই রিসোর্টের এক-চতুর্থাংশ শেয়ারের মালিকানা বেনজীরের পরিবারের হাতে।
কালের কণ্ঠের দাবি, বনের জমি দখল করে রিসোর্ট গড়ে ওঠার সময় বেনজীর আহমেদ ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, বেনজির সুকৌশলে তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। দেশের বাইরেও তিনি সম্পদ পাচার করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা, গোপালগঞ্জ ও দেশের বাইরে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের বিপুল সম্পদের খোঁজ মিলেছে বলে দাবি করা হয়।
ব্যারিস্টার সুমন জানান, বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ পার হলেও দুদক কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে তাই তিনি দুদকে আবেদন করেছেন। এ আবেদনের ব্যাপারে দুদক কোন পদক্ষেপ না নিলে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনবেন বলেও জানান ব্যারিস্টার সুমন।
সাবেক একজন আইজিপির বিপুল সম্পদের সঠিক অনুসন্ধান না হলে তা পুলিশের অন্য সদস্যদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন সায়েদুল হক সুমন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির। গত শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, পরিবার ও তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তিলকে তাল বানিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
সাবেক এই আইজিপি বলেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের সম্পত্তির যেসব মিথ্যা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে–এগুলো যদি কোনো ব্যক্তি বা কোনো গ্রুপ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে বিনা পয়সায় হাসিমুখে সেগুলো তার নামে লিখে দেব।’
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গোপালগঞ্জের পারিবারিক কৃষি খামারের ভূমির পরিমাণ যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। জমির সকল তথ্য ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ আছে। এ ছাড়া আমার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা আমাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সম্পদ নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন বেনজীর।