লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়া থেকে বাসায় ফেরার পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জাহিদ।
এ সময় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জাহিদ দাবি করেন, কিডনি, লিভার, আর্থাইটিসসহ নানা সমস্যার মধ্যে খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যাই এখন জটিল।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত বুধবার নিজ বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে বসে মেডিকেল বোর্ড। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্ত বিদেশী চিকিৎসকরাও। পরে বোর্ডের সুপারিশে রাতে বাসায় নিয়ে আসা হয় খালেদা জিয়াকে।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘আপাতত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে গুলশানের বাসাতেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে।’
গত বছরের ৯ আগস্ট নানা জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আথ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসহ নানা রোগে ভুগছেন।
প্রায় ৫ মাস চিকিৎসা শেষে গত ১১ জানুয়ারি তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন।
এরপর গত ৩০ মার্চও একবার অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে আসেন খালেদা জিয়া। সে সময় তিন দিন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতের রায়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন খালেদা জিয়া। তবে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৪০১ (১) ধারা অনুযায়ী কারাদণ্ড স্থগিত করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেয়। এরপর দফায় দফায় তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত রাখার মেয়াদ বাড়ায় সরকার।
ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। হাইকোর্ট এই মামলায় পরের বছর ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর তাঁর আপিল খারিজ করে দেওয়ার পর তাঁর শাস্তি বাড়িয়ে ১০ বছর করে দেন।
এর আগে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার আরেকটি বিশেষ আদালত খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে। তখন তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দেওয়া হয়।