বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার নিউটাউন থানা পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। নিউটাউন থানা-পুলিশ বলছে, এরই মধ্যে গাড়িটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে দেশটির ফরেনসিক টিম। গাড়িটি ভাড়ায় ব্যবহার করতে নিয়েছিলেন আনোয়ারুল আজীম। গাড়ির মালিককেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, নিউটাউনে সঞ্জীবা গার্ডেনের ফ্ল্যাটটির ভাড়া নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন। তাঁকে ও বাংলাদেশি তরুণী সিলিস্তি রহমানকে খুঁজছে পুলিশ। তবে কলকাতা পুলিশের ধারণা, এরই মধ্যে আক্তারুজ্জামান ও সিলিস্তি ভারত ছেড়ে নেপালে পালিয়েছে।
এই ঘটনায় বাংলাদেশে আমানুল্লাহ ফয়সাল, সাজিদ ও মোস্তফা ফকির নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সামনে এমপি আনার ও তাঁর এক সঙ্গী কারও জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরে তাদের সামনে সুজুকির লালরঙের ওই প্রাইভেট কারটি এসে থামে। পরে গাড়ি থেকে আরেকজন ব্যক্তি নেমে আনারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনজনই গাড়িটিতে করে চলে যান। এরপর আরেকটি ফুটেজে ওই গাড়িটিকে সড়ক ধরে চলে যেতে দেখা যায়।
গত ১৩ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্টটির আরও কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৩ মে বাংলাদেশি নাগরিক আমানুল্লাহ, ফয়সাল সাজিদ ও এক তরুণীসহ ভবনটিতে প্রবেশ করেন আজীম। এরপর তাঁকে আর বের হতে দেখা যায়নি। তবে তাঁর সঙ্গে প্রবেশ করা অন্য তিনজন বিভিন্ন সময়ে সেখানে যাওয়া–আসা করেছেন।
কে এই আক্তারুজ্জামান শাহীন
নিউটাউনে সঞ্জীবা গার্ডেনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া এই আখতারুজ্জামানের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে। তিনি এলাকায় শাহীন মিয়া নামে পরিচিত। শাহীন কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. সহিদুজ্জামান সেলিমের ভাই। ঢাকার গুলশানে তাঁর বাসা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও রয়েছে শাহীনের। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তাঁর বাসা।
পুলিশ জানতে পারে, আক্তারুজ্জামান ও আনোয়ারুল আজীম পুরানো বন্ধু।
বাংলাদেশি গোয়েন্দারা বলছেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এলাকাটি হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। ধারণা করা হচ্ছে, সেলিম নিজেও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরই মধ্যে আমানুল্লাহ ও ফয়সাল সাজিদকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের সঙ্গে মুস্তফা ফকির নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কাছে এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংসদ সদস্য আজীম নিহত হয়েছেন, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাঁর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁকে মেরে টুকরো টুকরো করে টয়লেটে ফেলে ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়েছে।’
ভিডিও দেখুন:পশ্চিমবঙ্গের আইজি (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, আজীমকে সঞ্জীবা গার্ডেনে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে খণ্ডিত করে ফেলা হয়। এসব খণ্ডিত অংশ ফেলে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল কয়েকজন। তাঁদের খোঁজ পাওয়া গেলেই হত্যার রহস্যের জট খুলব বলেও ধারণা তাঁর। তবে তাঁর মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে এই ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি অখিলেশ চতুর্বেদী।
আনোয়ারুল আজীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বুধবার সংসদ সদস্য আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
আরও পড়ুন:
- ভারতে গিয়ে ৪ দিন ধরে ‘খোঁজ নেই’ এমপি আনারের
- নিখোঁজ এমপি আনার, ৬ দিনেও সুস্পষ্ট তথ্য নেই সরকারের কাছে
- এমপি আনোয়ারুল আজীমের মরদেহ পাওয়া গেল কলকাতায়
- নিখোঁজ হাওয়া থেকে মরদেহ উদ্ধার, এমপি আজীমকে নিয়ে যা ঘটল
- কলকাতায় এমপি আজীমের মরদেহ উদ্ধার: যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি
- এমপি আজীমকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী