ধরাছোঁয়ার বাইরে এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী

এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন ও সিলিস্তি রহমান। তবে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন এরই মধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। 

কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের ফ্ল্যাটে খুন হন আনোয়ারুল আজীম। কলকাতা পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ ছোটছোট টুকরো করে নানা জায়গায় ফেলা হয়েছে। এখন দুদেশের হাতে থাকা তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ে ঢাকার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কাজ করছে কলকাতা পুলিশ। 

আজীমের হত্যার কারণ নিয়ে সামনে আসছে নানা বিষয়। বলা হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো বিষয়। সূত্র বলছে, ৫ কোটি টাকার চুক্তিতে আজীমকে হত্যা করান তারই বন্ধু আক্তারুজ্জামান শাহীন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আমানুল্লা আমান, ফয়সাল সাজিদ ও মোস্তফা ফকির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছে। শাহীন ও অভিযুক্ত বাংলাদেশি তরুণী সিলিস্তি রহমানকে ধরতে অভিযান চলছে। 

এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হত্যার মোটিভ জানার কথাও বলছে ডিবি। 

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া সকলেই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে সব তথ্য আমরা ভারতের পুলিশের কাছে দিয়েছি। তাঁরা আমাদের সহায়তা করছে, তথ্যও দিচ্ছে।’

গ্রেপ্তার হওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সন্ত্রাসী। তারা একসময় গলাকাটা পার্টির লোক ছিল। খুলনা ও ঝিনাইদহে তারা এসব কাজ আগেও করেছে। মামলাও হয়েছে।’

কে এই আক্তারুজ্জামান শাহীন
নিউটাউনে সঞ্জীবা গার্ডেনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া এই আখতারুজ্জামানের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে। তিনি এলাকায় শাহীন মিয়া নামে পরিচিত। শাহীন কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. সহিদুজ্জামান সেলিমের ভাই। ঢাকার গুলশানে তাঁর বাসা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও রয়েছে শাহীনের। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে তাঁর বাসা।

পুলিশ জানতে পারে, আক্তারুজ্জামান ও আনোয়ারুল আজীম পুরানো বন্ধু।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আনোয়ারুল আজীম আনারের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা ছিল। ২০০৭ সালে আজীমকে ধরিয়ে দিতে রেড এলার্টও জারি করে ইন্টারপোল। তবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর সব মামলা থেকেই অব্যাহতি পান টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুন: