এমপি আজীম হত্যা: ‘কসাই’ জিহাদের ১২ দিনের রিমান্ড

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার ওরফে ‘কসাই’ জিহাদকে ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কলকাতার বারাসাত আদালতে নেওয়ার পর তাঁর ১৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, শুক্রবার বারাসাত আদালতে জিহাদকে হাজির করা হলে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। এ সময় জিহাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। 

সিআইডি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করার পর জিহাদকে ভাঙড়ের একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমপি আজীমকে খুনের পর সেখানেই দেহের অংশ ফেলা হয়েছে বলে জেরায় উঠে এসেছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে কোনও দেহাংশই মেলেনি। তাই শুক্রবার জিহাদকে দেহাংশ উদ্ধারের প্রয়োজনেই হেফাজতে চাইতে পারে সিআইডি।   

এদিকে আজীমকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে এ রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আসামিরা হলেন- আমানুল্লাহ ওরফের শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি। তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় তাঁদের রাখা হয়েছে। রিমান্ড শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হবে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা করেন। 

আনোয়ারুল আজীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এমপি আজীমের স্ত্রী ফেরদৌস ইয়াসিন শেফালী ও ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কালীগঞ্জে থাকেন। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দুজনেই ঢাকায় অবস্তান করছেন। তাদের বড় মেয়ে অরিনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আলাদা থাকেন।

আরও পড়ুন: