কিলিং মিশনের সবাই গ্রেপ্তার, আনার হত্যার মোটিভ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যায় অংশ নেওয়া সাতজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এখনও এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেনি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। 

হারুন অর রশীদ বলেন, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশে এবং বাকি দুজন ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে। ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক—এই দুই কারণ আমলে নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। 

ভারতে আনোয়ারুল আজীম নিহতের পর আসামি ধরতে অভিযানে নামে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবশেষ গতকাল বুধবার খাগড়াছড়ি থেকে ফয়সাল ও মোস্তাফিজকে গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি। যদিও এখনও মূল পরিকল্পনাকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হারুন অর রশিদ বলেন, কলকাতায় বন্ধু গোপালের বাসা থেকে বের হওয়ার পর আনারকে রিসিভ করে শিমুল ভূইয়াসহ সঞ্জীবা গার্ডেনের সেই ফ্লাটে নিয়ে যায় ফয়সাল। আনার বুঝে যাওয়ার পর ক্লোরোফর্ম (চেতনানাশক) দিয়ে অচেতন করে মোস্তাফিজ। হত্যার পর ১৯ মে দেশে পালিয়ে আসে তারা। পেশায় ফয়সাল ও মোস্তাফিজ ছিল ট্রাক চালক।

আজীম হত্যা মামলায় দেশে এ পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে আনলেও এখন পর্যন্ত হত্যার মূল কারণ জানতে পারেনি গোয়েন্দারা।

হারুন অর রশিদ বলেন, এ হত্যার মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীন এখনও পলাতক। তাঁকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করানোর জন্য যান ঝিনাইদহের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম। কলকাতা পুলিশ জানায়, ১৩ মে নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন এই সংসদ সদস্য। 

এ ঘটনায় আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরুর পর আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে আজীমের মরদেহ পাওয়া যায়নি। 

গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল, সেলেস্তা ও তানভীর এরই মধ্যে এমপি আজীমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন। এ ঘটনায় আরেক অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন আমেরিকা পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

কলকাতা পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার জিহাদ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আজীমের মরদেহ থেকে হাড় ও মাংস আলাদা করার কাজটি মূলত সে–ই করেছে। 

তদন্তের অংশ হিসেবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি কলকাতায় যায়। গত ২৮ মে বিকেলে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংসের টুকরা উদ্ধার করে ডিবি ও কলকাতা সিআইডির যৌথ দল। সে সময় ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি আজীমের দেহাবশেষ। ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে পরে জানা যাবে এটি তাঁর দেহাংশ কিনা।

এদিকে, গ্রেপ্তার সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কলকাতা থেকে কিছু হাড় উদ্ধার করেছে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। তবে এগুলো এমপি আজীমের কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।