জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা দুই পর্বের অনুমতি পেলেও এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি মাওলানা সাদের অনুসারীদের। টঙ্গী মাঠ ছাড়া অন্য কোথাও ইজতেমা করার সুযোগ নেই বলে সাফ জানাচ্ছেন তারা। আর জুবায়েরের অনুসারীদের দাবি, সাদপন্থিরা টঙ্গী মাঠে ইজতেমা করতে চাইলে সিদ্ধান্ত নেবে তৌহিদী জনতা।
আগামী বছরের জানুয়ারিতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। দুই পর্বেই অনুমতি পেয়েছে শুরায়ে নেজাম- বা মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা। এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ বা মাওলানা সাদ কান্দলভীর অনুসারীদের।
এ নিয়ে আবারো বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাওলানা সাদের অনুসারীরা বলছেন, টঙ্গীর মাঠ ছাড়া অন্য কোথাও তাদের ইজতেমা করার সুযোগ নেই। আর শুরায়ে নেজামের অনুসারীদের দাবি, টঙ্গিতে ইজতেমা করবে না- শর্তেই ২০২৫ সালে অনুমতি পেয়েছিল মাওলানা সাদের অনুসারীরা। এরপরও তারা ইজতেমা করতে চাইলে সিদ্ধান্ত নেবে তৌহিদী জনতা।
শুরায়ে নেজামের (মাওলানা জুবায়ের অনুসারী) মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘তারা একই মাঠে, যে মাঠে তারা রক্তপাত করেছে, হামলা চালিয়েছে। আবারও যদি তারা একই মাঠে ইজতেমা করার সাহস দেখায় বা ইজতেমা করে তৌহিদী জনতা বা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে কি না?’
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মুখপাত্র মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘এই তৌহিদী জনতার হুমকি দিয়েই সবসময় তারা সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তারা এই তৌহিদী জনতার স্লোগান দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করেছে। তৌহিদী জনতা মোকাবিলা করবে বলেই তারা বিভেদকে উসকে দেয়।’
মাওলানা সাদ-অনুসারীরা বলছেন, ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনো আলোচনা ছাড়াই শর্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে ইজতেমা ময়দানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ শুরায়ে নেজামের।
তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (মাওলানা সাদ অনুসারী) মুখপাত্র মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সহকারী উপদেষ্টা এই দুজনকে তারা যেকোনো মাধ্যমে কনভিন্স করেছে। তখন তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) একটা একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত দিয়ে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
শুরায়ে নেজামের (মাওলানা জুবায়ের অনুসারী) মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘তারা যে শর্তটা মেনেছে, এরজন্য প্রত্যেকে স্বাক্ষর করেছে। প্রত্যেকটা স্বাক্ষর আমাদের কাছে মজুত আছে। তারা স্বাক্ষর করার পর ইজতেমা করেছে।’
সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর কর্মসূচি দেওয়া কথা বলছেন মাওলানা সাদ-অনুসারীরা।



