এমপি আনার হত্যা মামলার চার্জশিট দিল কলকাতা সিআইডি

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনায় প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে কলকাতার সিআইডি।

গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত আদালতে প্রায় ১২০০ পৃষ্ঠার ওই চার্জশিট জমা দেওয়া হয় বলে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

সিআইডি জানিয়েছে, চার্জশিটে গ্রেপ্তার কসাই জিহাদ হাওলাদার এবং মোহাম্মদ সিয়ামের নাম আছে। তবে কী উদ্দেশে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছিল, সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, তদন্ত শেষ না হলে খুনের কারণ বলা যাবে না। তা ছাড়া, এই মামলায় মূল অভিযুক্তকে এখনও জেরা করা যায়নি।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। পরে ১৮ মে বরাহনগর থানায় তার নিখোঁজের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।

তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং বরাহনগর থানা জানতে পারে, নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটএ নিয়ে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পর ২২ মে জিহাদকে গ্রেপ্তার করে। পরে গ্রেপ্তার করা হয় সিয়ামকে।

অন্যদিকে, ঢাকার পুলিশ দেশে আমানুল্লা ওরফে শিমূল ভূঁইয়া, শেলাস্তি রহমান, ফয়জল এবং মুস্তাফিজুর-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই ঘটনার মূল চক্রান্তকারী এমপি আনারের বন্ধু আখতারুজ্জামান শাহিন পলাতক। তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে আনার চেষ্টা করছে সিআইডি।

জিহাদ এবং সিয়ামকে গ্রেপ্তার করার পরে সিআইডি জানিয়েছিল, খুনের পর এমপির দেহের মাংস এবং হাড় পৃথক করে ফেলা হয়। একটি খাল থেকে কিছু হাড় উদ্ধার করলেও তা এমপি আনারেরই কি না, সে ব্যাপারে ফরেনসিক রিপোর্ট আসেনি এখনও।

সিআইডি জানিয়েছে, ওই পরীক্ষার নিশ্চিত রিপোর্টের জন্য এমপি আনারের পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তাঁর পরিবারের কেউ কলকাতায় যেতে পারেননি।