হত্যা মামলায় নাম, উপদেষ্টা শেখ বশির বললেন ‘জানি না’ 

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্যবসায়ী শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে গুলিতে নিহত এক যুবকের হত্যা মামলার আসামি বলে জানা গেছে। রোববার শপথ নেওয়া শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর ঢাকার রামপুরা থানায় হওয়া একটি হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে এই ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মহিলা কলেজ সড়কের বাসিন্দা মোছা. সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে তাঁর ছেলে শোহান শাহ নিহতের ঘটনায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল, মাগুরা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও ব্যবসায়ী শেখ বশিরউদ্দীনসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন ২০০ থেকে ৩০০ জন।

আন্দোলনে নিহত শোহান শাহ। ছবি: সংগৃহীতমামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শোহান। এর ৩৯ দিন পর ২৭ আগস্ট ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তাঁর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলার এজাহারে শেখ বশিরউদ্দীন ৪৯ নম্বর আসামি। 

জানতে চাইলে আজ সোমবার মামলার বাদী ও নিহত সোহানের মা মোছা. সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ দারোগা এরাই আমার ছেলেরে গুলি করেছে। এরাই ষড়যন্ত্র করে মারেছে। কিডা তাগের (আসামি) নাম দেছে বলতি পারব না। তবে তাঁরাই ষড়যন্ত্র করে মারেছে।’

মামলার আসামি শেখ বশিরউদ্দীনকে চেনেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনারে আমি চিনি নে। আমার ছেলের যারা মারেছে তাগের বিচার চাই।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আসামিদের নাম। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনএদিকে সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে আসেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মামলার আসামি কিনা জানি না, সেখানে পিতার নাম অমিল আছে। আমি ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সাথে ছিলাম।’ 

এ সময় এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কাজ করব, মানুষের কষ্ট বুঝি। এটা আমি দায়িত্ব হিসেবে দেখছি। ব্যবসায়ী হিসাবে আমার সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।’