পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) রায় বৈশ্বিক নীতি পরিবর্তনে সাহস যোগাবে’। শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা’ বিষয়ে আইসিজের উপদেশমূলক মতামত নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘জলবায়ু সংক্রান্ত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি পরিবর্তনে নৈতিক সাহস যোগাবে। এটি বড় বড় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে চাপ সৃষ্টি করবে। এ চাপ বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রগুলোকে নীতিমালায় পরিবর্তন আনতেই হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার সুযোগ বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের জন্য আশার আলো।’
এ বিষয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তে জলবায়ু ক্ষতি করে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে– এমন রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে নৈতিকভাবে বাধ্যবাধকতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। এর জন্য দরকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশের শক্তিশালী জোট।’
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দেশে ক্ষতিকর কোনো উন্নয়ন করা যাবে না। সেই সাথে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোজন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে হবে। জলবায়ু তহবিলে দেশের নদী ভাঙার কবলে থাকা মানুষদের পুনর্বাসন অগ্রাধিকারসহ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকৃতিনির্ভর সংরক্ষণে জোর দিতে হবে। এনজিও এবং সরকার একসাথে কাজ করলে জলবায়ু সমস্যাগুলো সহনীয় সমাধান করা সম্ভব।’
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়কটি বিষয় নিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন পরিবেশ উপদেষ্টা।