শেখ হাসিনা–আসাদুজ্জামানের কী পরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলো

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সম্পদও বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শেখ হাসিনা ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেন। আর আসাদুজ্জামান খান দেখান ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকার সম্পদ। তবে দুদক বলছে, তাদের প্রকৃত সম্পদ এর কয়েকগুণ বেশি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর মিলিয়ে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা দেখান। আর তিনটি মোটরগাড়ির মধ্যে দুটির দাম দেখান ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্বর্ণসহ মূল্যবান বস্তুর দাম ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাব ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার উল্লেখ করেন।

স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর ও রংপুরে ১৫ বিঘার বেশি জমি, গাজীপুরে ৯ বিঘার বাগানবাড়ি এবং ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে তার। এসব সম্পদের দাম দেখানো হয় ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্বাচনী হলফনামায় নগদ, ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও শেয়ার মিলিয়ে দেখানো হয় ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। দুটি গাড়ির দাম ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এছাড়া উল্লেখ আছে ব্যবসার মূলধন ২ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণ।

ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও আসবাবের মূল্য ২ লাখ টাকা দেখান আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া ৫ বিঘা কৃষিজমি, দুটি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট এবং ১৮ শতক জমি মিলিয়ে তার মোট সম্পদ ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

তবে দুদক বলছে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছেন। জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের মালিক আসাদুজ্জামান খান।

সোমবার ট্রাইব্যুনালের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সব সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। জুলাই শহীদ পরিবারকে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ’ দিতেও সরকারকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।