এনইআর বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হোক: মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআর) বাস্তবায়নের ফলে সারা দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই এনইআর বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হোক। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সোমবার বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এ কথা বলেছে।

সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, একদিকে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন অন্যদিকে কমিশন এবং সরকারের দিক থেকে একেকবার একেক ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহনের ফলে গ্রাহকরা চরম বিপাকে রয়েছে।

তিনি বলেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের চলমান আন্দোলনের কারণে সারা দেশে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহক। নতুন হ্যান্ডসেট কেনা, ওয়ারেন্টি সেবা, রিপেয়ারিং ও যন্ত্রাংশ পাওয়া—সব ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে জরুরি যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রে মার্কেট সক্রিয় হয়ে প্রতারণা ও অতিরিক্ত দামের ঝুঁকিও বাড়ছে।

তাদের দাবির কথা জানিয়ে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, এনইআর বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হোক। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের হয়রানি যাতে না হয় তার জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা তৈরি করে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরির পর বাস্তবায়ন করা হোক। কারণ আসন্ন নির্বাচনে যাতে করে কোন প্রকার বাধা-বিপত্তি তৈরি না হয় সেদিকে নজর রেখেই আপাতত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন বন্ধ করা হোক।

এতে বলা হয়, গ্রাহকদের হ্যান্ডসেটের গ্যারান্টি অবশ্যই দুই বছর হতে হবে এবং ওয়ারেন্টি পাঁচ বছর দিতে হবে। উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের এবং বৈধভাবে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। প্রত্যেকটি হ্যান্ডসেটের মান নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে হ্যান্ডসেটের গায়ে সেই মান নির্ধারিত স্টিকার থাকতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রাহক যাতে করে তার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পারে তার জন্য বিটিআরসিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সারা দেশব্যাপী কাস্টমার কেয়ার তৈরি করতে হবে। আন্দোলন চলাকালে ন্যূনতম গ্রাহকসেবা চালু রাখা এবংওয়ারেন্টির গ্রেস পিরিয়ড ঘোষণা করতে হবে। অতিরিক্ত দাম ও প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

এতে বলা হয়, আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি আর না বাড়ে। সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় কোনভাবে একই সাথে ইন্টারনেট বর্তমানে মৌলিক অধিকার তাই এই অধিকার থেকে সারা দেশের জনগণ কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয় এ ব্যাপারে সরকারকে যত্নবান হতে হবে।