বর্তমান সরকারের আমলেও দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে মনে করেন গুমসংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। এদিকে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন। এ সময় নতুন জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন গুমসংক্রান্ত কমিশনের সদস্যরা।
বিগত সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা গুমের শিকার হন রাজনৈতিক কর্মী ও সেনাসদস্যসহ অনেকে। বিভিন্ন সময়ে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার ধানমন্ডির বিলিয়া অডিটোরিয়ামে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন গুমের শিকার ব্যক্তিরা। উপস্থিত ছিলেন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরাও।
গুমের শিকার ব্যক্তিরা আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেও তাঁরা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারাগারে মৃত্যু ও বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির কথা উল্লেখ করে নূর খান লিটন জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনো উন্নত হয়নি।
নূর খান লিটন বলেন, ‘আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, তা অশনিসংকেত। যেমন হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা আছে, মব তৈরি করে মানুষকে হেনস্তা করা—এসব উদ্বেগ এখনো যায়নি। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, এটি বলার সুযোগ নেই।’
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিতের কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আগামীতে মানবাধিকার সংস্থা এবং বিচার বিভাগ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, যাতে মানুষের অধিকার খর্ব না হয়।’
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন আলোচকেরা।