ভোটগ্রহণের সময় শেষ, এখন ফলাফলের অপেক্ষা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটের অধিকার ফিরে পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলো ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গণভোটে ও ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়। এখন চলছে ভোট গনণার প্রস্তুতি।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। দুপুরে ভোটের হার কম ছিল।’ 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ আছেন ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩ জন। 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে সারা দেশের ভোটদানের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গণভোটে ও ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ।

শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুতে এবার ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কার আর রাজনীতির নতুন মেরুকরণের এ নির্বাচনে লড়ছেন ২ হাজার ২৮ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন, স্বতন্ত্র ২৭৫ জন। অংশ নিয়েছে ৫০টি দল।

একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনে প্রশাসন যেমন শক্ত ভূমিকায় থাকবে, ঠিক তেমনিভাবে প্রার্থীরাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা ভোটারদের।

এবার মোট ৪২ হাজার ৯৫৮টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচনী দায়িত্বে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। নিরাপত্তায় রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ। ৮ আগস্ট দায়িত্বে আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের আয়োজনে চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরে ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে তারা। এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষগুলো বারবার আন্দোলন করে, তবে তা ফেরেনি।

আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে আয়োজন করা হয় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর বিলুপ্ত করা হয় দ্বাদশ সংসদ।