খননের জন্য নতুন করে খাল শনাক্তের প্রকল্পকে অপচয় বলছেন বিশ্লেষকরা

খাল খনন কর্মসূচিতে নতুন করে খাল শনাক্তের দরকার নেই। এখাতে বরাদ্দ ৩১ কোটি টাকাকে অপচয় বলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিগত সরকারের আমলেও ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ উদ্ধারে ড্রেজিং মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছিল। তবে, অনিয়ম-দুর্নীতিতে পানিতে গেছে সরকারের বিপুল অর্থ; সুফল পায়নি দেশবাসী।

দেশে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেন জিয়াউর রহমান। কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য ঘাটতি মেটাতে এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। এতে অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদন বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

প্রায় সাড়ে ৪ দশক পর আবারও বিএনপির খাল খনন কর্মসূচি। তবে, এবার সারা দেশে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল সচল করার উদ্যোগ। খাল সচল হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে; সেই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধায় বাড়বে কৃষি উৎপদনও।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘শিল্প–কল–কারখানা তো ভেঙে দেওয়া যাবে না। বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে পরিকল্পিতভাবে শিল্প–কারখানার বর্জ নিষ্কাষণের জন্য একটা প্রকল্প গ্রহণ করা–– সেটা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে।’   

প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার কিলোমিটার খাল দখল মুক্ত, খনন ও পুনঃখনন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তির ব্যবহারে ৬ মাসেই সারা দেশে ৩০ হাজার খাল শনাক্ত করে জিআইএস ডাটাবেস তৈরি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আশরাফ দেওয়ান ইনডিপেনডেন্ট বলেন, ‘কোথায় কোন খাল ছিল এটার বর্তমান অবস্থা কী, কীভাবে এটাকে খনন বা পুনঃখনন করা যেতে পারে সেগুলো খুব সহজে এখন করা যায়। এগুলো এই এআইয়ের যুগে এসে যদি আবার ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্পে ৩০ কোটি কাটা খরচ করি? আমার মনে হয় বেঞ্চমার্ক বা ডিফারেন্স পয়েন্ট যেগুলো আছে সেগুলো ধরে এগুলে ভালো হয়।’

গত দেড় যুগে ৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ পুনরুদ্ধারে ১৭৮টি নদীর ১০ হাজার কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ড্রেজিং মাস্টারপ্ল্যান নেয়া হয়েছিল। তবে, অনিয়ম-দুর্নিতির কারণে এর সুফল পায়নি দেশবাসী। 

অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘সারফেস ইরিগেশনটা এক্সপান্ড হবে। ইরিগেশন সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য উপকরণের যদি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় তাহলে নিশ্চয়ই কৃষির উৎপাদন বাড়বে।’

গবেষকরা বলছেন, ৩ দশকে ভৌগোলিক পরিস্থিতি বদলেছে। পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা, কুশিয়ারা নদীর উজানে ভারত ও চীনে ড্যাম নির্মাণ হয়েছে। তাই বর্তমানে খাল ও নদীগুলোর পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে উজান থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে।