সাড়ে ৩ মাসেও কাটেনি নিষেধাজ্ঞা, আপিল বিভাগে ঢুকতে পারছেন না সাংবাদিকেরা

সাড়ে তিন মাস ধরে সংবাদ সংগ্রহে আপিল বিভাগে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গণমাধ্যম কর্মীদের। বাধা দেওয়া হচ্ছে হাইকোর্টেরও বিভিন্ন বেঞ্চে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফায় প্রধান বিচারপতির দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা। কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলও কিন্তু কোনো সমাধান মেলেনি। আইনজীবী ও সাংবাদিক নেতারা এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিচারের সঠিক তথ্য প্রাপ্তিতে দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার চান।

সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থেকে বিচার কাজের তথ্য সংগ্রহে, এতদিন তেমন কোনো সমস্যা হয়নি গণমাধ্যম কর্মীদের। তবে গত ৭ জানুয়ারি, প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েন তাঁরা।

এর পর ২১ জানুয়ারি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আইনজীবী ছাড়া অন্যদের আদালতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এর পর থেকে হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চেও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ২০ এপ্রিল একটি সাংবিধানিক মামলার তথ্য নিতে গেলেও, মেইন ২৩ নম্বর কোর্ট থেকে বের হয়ে যেতে হয় তাদের। প্রবেশাধিকার চেয়ে দুবার চিঠি দিয়েও সমাধান পাননি সাংবাদিকেরা। এমনকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলও।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘স্বাধীন গণমাধ্যম সবসময় নির্বিঘ্নে কাজ করবে এ ব্যাপারে আমি সকলের সঙ্গে একমত। সাংবাদিক হিসেবে সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি আমি যথাস্থানে উপস্থাপন করেছি।’

ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বরাবর চিঠি দিয়েছি, দুই দফায় আমরা প্রবেশাধিকার চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তবে একটিরও জবাব পাইনি আমরা। আপিল বিভাগে ঢুকতে না পারলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করা যাবে না।’

ন্যায় বিচারের খবর সংগ্রহে, এমন বাধা মেনে নিতে পারছেন না সিনিয়র আইনজীবীরাও।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, ‘বর্তমানে সেনসিটিভ যে মামলাগুলো সেগুলোর বিচার হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে। সেখানের বিচারও আমরা লাইভ প্রচার হতে দেখেছি। ফলে এজলাসের ভেতরে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীদের যাওয়ায় প্রতিবন্ধকতা কোথায় সেটি আমাদের কাছেও বোধগম্য নয়।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। একে কোনো বাধা দেওয়া গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান সাংবাদিক নেতারা।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করব, তিনি এ যেন এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। সাংবাদিকদের তিনি সংবাদ সংগ্রহে বাধা না দিয়ে সহায়তা করবেন।’

এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারলেও, ভালো সমাধানের আশা করছেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার।