সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ১৪ বছরেও মেলেনি। রোববার তদন্তের জন্য টাস্কফোর্সকে আরো ৬ মাস সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, আলোচিত এই জোড়া খুনের তদন্তে প্রাথমিকভাবে যারা কাজ করেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় অগ্রগতি কম। তবে তথ্য পেতে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে টাস্ক ফোর্স।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছরেও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কূলকিনারা করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা। নিম্ন আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এ পর্যন্ত ১২৫ বার পিছিয়েছে।
পিবিআই প্রধানের নেতৃত্বে হাইকোর্টের গঠন করে দেওয়া ৬ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ে টাস্কফোর্সও গত দেড় বছরে জমা দিতে পারেনি প্রতিবেদন। রোববারও আবারো ৬ মাসের সময় আবেদন করলে, হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করেন।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, টাস্কফোর্সের কাছে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্যউপাত্ত না থাকা এবং আওয়ামী লীগের সময় যারা তদন্তে ছিল তাদের নাগাল না পাওয়ায় তেমন অগ্রগতি নেই।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘যারা শুরুতেই তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্ত সংস্থার সঙ্গে দায়িত্বে ছিলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরকে অ্যাকসেস করে পাচ্ছেন না বলে আমাকে জানিয়েছেন। তবে টাস্কফোর্স আমাকে জানিয়েছেন ইতোমধ্যেই আমাদের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন।’
এতো বছরেও গুরুত্বপূর্ণ দুই হত্যাকান্ডের কোনো ক্লু না পাওয়ায় হতাশ সাগর রুনির পরিবার ও আইনজীবী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের জন্যেও জন্য এটা লজ্জার বলেও মন্তব্য তাদের।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত টাস্কফোর্সও যদি ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের আর যাওয়ার জায়গা নাই। শুধু তাই নয়, এটা দেশের জন্যেও একটি লজ্জার ব্যাপার। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের জন্য একটি শেমফুল ব্যাপার। বিচার ব্যবস্থার জন্য লজ্জা, ইনভেসটিগেশন সিস্টেমের জন্য লজ্জা, দেশের জন্য লজ্জা, আর সর্বোপরি নাগরিকদের জন্য হতাশার কারণ।’
হত্যার তদন্তে কাজ করা টাস্কফোর্স জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় ও এর পরবর্তী আইজিপি, গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তারা।