বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৭ থেকে আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘একজন বিচারকের বয়স যত বাড়বে তত বেশি ন্যায় বিচারের আলো ছড়াবে।’ শনিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্র্যাক সেন্টারে প্রকাশ হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পদ্বতিগত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন। সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে গবেষণাটি করা হয়। এতে উঠে আসে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। আর ৭০ শতাংশ মামলাতেই খালাস পাচ্ছে আসামিরা।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলো নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৩২ জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালের ৪ হাজার ৪০টি মামলা।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সব খাতের মধ্যে বিচারবিভাগ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এ খাতে বছরে বরাদ্দ মাত্র ২২০০ কোটি টাকা।’ বিচারকদের অবসরের বয়স ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বলা হয়, বিএনপি নাকি বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ করেছে। আমি মনে করি বিচারকদের অবসরের বয়সসীমা আরও বাড়ানো উচিত। একজন বিচারকের বয়স যত বাড়বে তত ন্যায় বিচারের আরও বেশি আলো ছড়াবে। বিচারকদের আর্থিক সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত।’
জুডিশিয়াল সার্ভিস সেক্টরে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই মন্তব্য করে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, সে চেষ্টাও করা হয় না। কথা বলেন, আলোচিত তনু হত্যা নিয়ে সরকারের মনোভাবের বিষয়েও।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তনু হত্যার আসামির গ্রেপ্তারের বিষয়ে ১০ বছরেও যেটা সম্ভব হয়নি ক্ষমতায় আসার মাত্র ২ মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যা যা করার করেছি। এখনও এ মামলার চার্জশিট হয়নি। তাই এটি এখনো আইন মন্ত্রনালয়ের বিষয় না, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। বাকি আসামিদের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে।’
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম কমিশন অধ্যাদেশ, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের ইস্যু রয়েছে। আরও পর্যালোচনার সুযোগ আছে।’