সীমান্তে ভারতের পুশ-ইন চেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মানবিক দিক বিবেচনায় বিপন্ন মানুষকে শূন্য রেখায় ফেলে না রেখে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া উচিত, মত তাদের। মানুষের দুর্ভোগে বেশি দায়িত্ব ভারতের, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আইন মেনে দ্রুত সমস্যা সমাধানে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মে'র শুরু থেকে সীমান্তে বিএসএফের একের পর এক পুশ-ইন চেষ্টা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নওগাঁ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্তে প্রতিদিনই পুশ-ইন চেষ্টা এবং তা প্রতিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, জুনের শুরু থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ২০টি পুশ-ইন চেষ্টা হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় নারী ও শিশুদের শূন্যরেখায় অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
শরণার্থী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক- দু'ধরনের আইনেরই লঙ্ঘন। মানুষকে শূন্যরেখায় ফেলে রাখা মানবিক সংকট তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শরনার্থী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, 'আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায় বিশেষ করে মানবিক অধিকার বা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে একটা টার্ম আছে প্রিন্সিপাল অব নন-রিফরমার। এর অর্থ হচ্ছে, যাচাইবাছাই না করে কোনো ব্যক্তিকে বা গোষ্ঠীকে আমি এক দেশের বর্ডার থেকে আরেক দেশের বর্ডারে পুশ করতে পারব না। কেউ বাংলাদেশি, কেউ ভারতীয়, কাজেই এটা যাচাইবাছাই ছাড়া কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইনে অনুমতি নেই, যে আমি ক্রস করতে পারি।'
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুশ-ইনের ক্ষেত্রে ভারত তার নিজের আইনই মানছে না। অনুসরণ করছে না কূটনৈতিক কাঠামোও। শুধু রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, 'কূটনৈতিক যে পদ্ধতিগুলো আছে, সেটার সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য সচেষ্ট থাকা উচিত। রাজনীতি তারা (ভারত) করতে চান তাদের ওখানে তারা করেন- তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তাদের রাজনীতির ফসল যেন আমার ঘাড়ে এসে না পড়ে।'
পুশ-ইনের কারণে মানবিক সংকটের পাশাপাশি সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।